পঞ্চগড়ে বৃক্ষমেলার নামে চলছে বাণিজ্য মেলা!

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৯ আগ ২০১৬ ১২:০৮

PANCHAGARH-PIC-01

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া ১০ দিন ব্যাপি ফলদ ও বনজ বৃক্ষমেলা এখন পরিনত হয়েছে বাণিজ্য মেলায়।
মেলা গাছের চারার কোন বিক্রি না হলেও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে কসমেটিকসসহ নানান হস্ত ও কুটির শিল্প সামগ্রী।
মেলায় একটি চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাইরে থেকে এইসব কসমেটিকস, হস্ত ও কুটির শিল্প সামগ্রীর দোকান এনে ব্যাবসা চালাচ্ছে বলেও অভিযাগ উঠেছে।
এছাড়া প্রচার-প্রচারণার অভাবেও গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ মেলায় অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র নার্সারী মালিকদের।
জানা যায়, গত ৩ আগস্ট পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে সরকারি অডিটোরিয়ামে ১০ দিন ব্যাপি ফলদ ও বনজ বৃক্ষমেলা শুরু হয়। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আরডিআরএস ও বনবিভাগের ৩টি প্রদর্শনী স্টল বসে। গাছের চারা বিক্রির জন্য বসানো হয় ১১টি নার্সারীর স্টল। অপর দিকে কসমেটিকস ও হস্ত-কুটির শিল্প সামগ্রীর স্টল বসে ১১টি এবং আচার বিক্রির স্টল বসে ১টি।
মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারী মালিকদের সাথে কথা কলে জানা যায়, গত ৭ দিনে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে গাছের চারা কেনার তেমন কোন আগ্রহ নেই। তবে যে দুয়েককজন আসেন তারা কসমেটিকস ও আচারের স্টলে কেনাকাটা করেই চলে যান। এতে স্টল দিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন তারা। লাভ তো দুরের কথা ১০ দিনের খরচই উঠবে কিনা এমন আশঙ্কাই করছেন তারা। যথেষ্ঠ প্রচার-প্রচারণা না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ চারা বিক্রেতাদের।
বোদা উপজেলা থেকে আসা আইভি নার্সারীর বিক্রেতা ইয়াসিন আলী জানান, আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে বৃক্ষ মেলার। কিন্তু এখানে আসে তো বৃক্ষমেলা মনে হয় না মনে হচ্ছে বাণিজ্যমেলা। ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার চারা নিয়ে এসেছি। বেচাকেনা নাই বললেও চলে। সোমবার সারাদিনে বিক্রি করেছি মাত্র ৮শ’ টাকা। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এখনও একটা টাকাও বিক্রি হয়নি।
অন্তর নার্সারীর মালিক মাসুদ রানা জানান, এবারের বৃক্ষমেলাতে প্রচারের অভাবে তেমন বেচা-বিক্রি নেই। বাইরের লোক জানতে না পারায় মেলায় ক্রেতার সংখ্যা খুব কম বলে তিনি জানান।
পঞ্চগড় নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান,আমরা মেলাকে জমানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিটিংএ কসমেটিকস ও হস্ত-কুটির শিল্প সামগ্রীর স্টল বসানোর ব্যাপারে মতামত দিয়েছি।
পঞ্চগড় বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আরশাদুল হক জানান, আমরা যথাসাধ্য প্রচারণা চালাচ্ছি। তবে কসমেটিকসের দোকানগুলো নার্সারী মালিক সমিতি ও অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার বসিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। #

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •