পথশিশুদের সাথে সিলেটে পুলিশসুপার কন্যার জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশিত:সোমবার, ১৩ জুলা ২০২০ ০৩:০৭

পথশিশুদের সাথে সিলেটে পুলিশসুপার কন্যার জন্মদিন উদযাপন

আয়েশা তাবাসসুম সানভি। শনিবার ছিল তার ১২তম জন্মদিন। বাবা সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন। সানভি জানে করোনার এই দু:সময়ে ঘটা করে জন্মদিন পালন হবে না। কিন্তু বিকেল থেকেই তাদের সরকারি বাংলোয় অনেক মানুষের রান্না হচ্ছে, বেশ কয়েক জাতের ফলও কেনা হয়েছে। তদারকি করছেন বাবা মো. ফরিদ উদ্দিন এবং মা মাহফুজা শারমিন।

রাত দশটায় সানভি, জানভি আর জারাভি এই তিন কন্যাকে নিয়ে তারা হাজির হলেন সুরমা নদীর ধারে, ক্বীনব্রিজের পাশে চাঁদনীঘাটে। জড়ো হয় পথশিশু আর ভবঘুরে ভাসমান অনেক মানুষ। আর সেখানেই মো. ফরিদ উদ্দিন ও মাহফুজা শারমিন দম্পত্তি নিজেদের ঘরে তৈরি খাবার আর ফল বিলিয়ে দিলেন তাদের মধ্যে। বড় মেয়ের জন্য পুলিশ সুপারের এটিই ছিল জন্মদিনের আয়োজন। সবাইকে নিয়ে বাঁচা, মানুষের জন্য কিছু করার প্রেরণা তিনি নিজ কন্যাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। তবে খাবার বিতরণের আগে তিনি কাউকে বলেননি যে এটি জন্মদিনের আয়োজন ছিল।

সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েসন (ইমজা) করোনাকালীন সময়ে তাদের রাতের খাবার বিতরণ করে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছে। ‘ভালোবাসা সহমর্মিতায় করোনা সংকটকালে মানুষের পাশে ইমজা’ এই স্লোগান নিয়ে সংগঠনটি চেষ্টা করছে অনেকে যারা ছোটোখাটো অপরাধে জড়িত তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

সানভি, জানভি আর জারাভি এই তিন কন্যাকে নিয়ে ইমজার এই কর্মসূচিতে অনেক হৃদয়বান মানুষই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুলিশ সুপারও আছেন। পূর্বে সংগঠনটিতে নগদ অনুদানও দিয়েছেন অসহায়দের জন্য। কিন্তু শনিবারের রাতটা ছিল ভিন্ন। খাবার বিতরণের পরই তিনকন্যার জননী মাহফুজা শারমিন জানালেন, আয়োজনটি তার বড়কন্যা সানভির জন্মদিন উপলক্ষে। ইমজার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিষয়টি যেমন ছিল প্রেরণাদায়ক তেমনি তিনকন্যার চোখেও ছিল খুশির ঝিলিক।

লাঠির বদলে খাবার আর ফলমূল নিয়ে আসা পুলিশ দেখে যারপরনাই খুশি আর বিস্ময় পথশিশু আর ছিন্নমূল মানুষের চোখেও। পুলিশ সুপারের সাথে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান, কোতোয়ালি থানার সহকারি পুলিশ কমিশনার নির্মল চক্রবর্তী এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইফুল আলমও।

খাবার বিতরণ শেষে ব্রতচারি সংগঠক বিমান তালুকদারের পরিচালনায় ‘জয় জয় সোনার বাংলা’গান গেয়ে সবাই মিলে সানভিকে জানানো হয় জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

নিজের বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘করোনাকালে সিলেট জেলা পুলিশ প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগতভাবেও দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা আমি ধারণ করি। সেটি নিজের কন্যাদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চাই। তারা যেন শুধু নিজের জন্য না বাঁচে, মানুষের জন্য কিছু করাই তাদের জীবনের ব্রত হয়’।

এই সংবাদটি 1,238 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •