পবিত্র কোর-আন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।

প্রকাশিত:রবিবার, ১৪ আগ ২০১৬ ১১:০৮

পবিত্র কোর-আন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক  ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী ঃ আজ ১৫ আগস্ট, পবিত্র কোর-আন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। খ্যাতিমান এই ব্যক্তিটি জন্মেছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা গ্রামে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের শেষ স্মৃতি চিহ্নটিও ধংস হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। অবশেষে বিখ্যাত এই ব্যাক্তির স্মৃতি রক্ষায় এগিয়ে এসেছে ভারত সরকার। জেলা প্রশাসন ও ঐতিহ্য অন্বেষণ যৌথ উদ্যেগে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটি সংরক্ষণের পাশাপাশি জাদুঘর হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। চলছে শেষ মুহুর্ত্তের কাজ।
জানা যায়, মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম সার্থক বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন। ইংরেজি ১৮৩৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে নরসিংদীর সদর উপজেলার পাঁচদোনা গ্রামে তিনি জন্ম নেন। ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকায় তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ। ব্রাক্ষ ধর্ম প্রচারক হিসেবে ‘ভাই’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। আবার আরবি ফার্সি ভাষায় ব্যুপত্তি অর্জন ও কোরান হাদিসের প্রথম অনুবাদক হিসেবে লাভ করেন মৌলভী খেতাব। তিনি প্রায় সকল ধর্মগ্রন্থ নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তার মৃত্যুর পর মহান ব্যক্তির স্মৃতি বিজড়িত পাঁচদোনার এই বাড়ীটি সংরক্ষণ তো দূরের কথা, উল্টো দখলে চলে গেছে তার ভিটে-বাড়ি। নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে তার শেষকৃত্য স্থানটিও। দেশের দূর দূরান্ত থেকে লোকজন গিরীশ চন্দ্রের বাড়ী দেখার জন্য ছুটে আসলেও হতাশ হয়ে ফিরতে পর্যটকদের। এই এলাকার বর্তমান প্রজন্ম যেমন জানেনা গিরিশ চন্দ্র সম্পর্কে। তেমনি স্থানীয় লোকজনও ভূলতে বসেছেন গিরিশ সেনের ইতিহাস।
২০০৮ সালের তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কৌতুহল বসত বাড়িটি দেখতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ভারত সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় অনুদানে সংস্কারের ব্যবস্থা করেন। পরে ভারতীয় সরকারের আর্থিক অনুদানে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ঐতিহ্য অন্বেষণ ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটি সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মানের উদ্যোগ শুরু হয়। বাড়িটির মূল অবকাঠামো অক্ষুন্ন রেখে মেরামত ও সংরক্ষণ করার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন ভারত সরকার।
গত বছরের ২৪ মে জেলা প্রশাসন ও ঐতিহ্য অন্বেষণের মধ্যে বাড়িটি সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মাণের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও দিকনির্দেশনায় ঐতিহ্য অন্বেষণ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সংরক্ষণ কাজ শুরু করেন।

ঐতিহ্য অন্বেষণ নির্বাহী পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মূল অবকাঠামো অক্ষুন্ন রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভাই গিরিশ চন্দের বাড়ির মেরামত ও সংরক্ষণ করা হবে। বাড়িটিতে গিরিশ চন্দের জীবন ও গবেষণা নিয়ে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। যাতে গিরিশ চন্দ্র সেনের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও লেখা বই স্থান পাবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে মূল রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাড়িটিকে জ্ঞান বিকাশের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহিনূর মিয়া জানান, দেশে চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ রুখতে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়াও বর্তমান জেলা প্রশাসক স্মৃতি রক্ষায় অগ্রনী ভুকিা পালন করায় সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তবে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটির সৌন্দর্য্য ম্লান হচ্ছে আশপাশের অবৈধ দখলের কারণে। তাই দখলদারদের উচ্ছেদ করে মহান এই ব্যক্তির বাড়ির সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসীর।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •