Mon. Nov 18th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি হয়ে ডাকসু নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের আট নেতার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়া শেষ হওয়ায় নির্বাচনের আগমুহূর্তে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে তাঁরা ভর্তি হন। ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ওই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু তাঁদের কেউই তাতে অংশ নেননি। ভর্তি হওয়া একাধিক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতা প্রথম আলোর কাছে এ কথা স্বীকার করেছেন।

 

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। নির্বাচন করতে আগ্রহী এই ৩৪ জনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচনে আটজন অংশ নেন, বিজয়ী হন সাতজন। এ ছাড়া দুটি হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন দুজন। এর মধ্যে একজন নির্বাচিত হন, অন্যজন পরাজিত হন। আরেকজন ছিলেন ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

 

সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এসব পরীক্ষার ফল, আগের একাডেমিক ফল এবং কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সমন্বিত ফল তৈরি করা হবে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দুই বছর মেয়াদি এই প্রোগ্রাম চালু হয় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি। ডাকসু নির্বাচনের আগে এই প্রোগ্রামের সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। ৩০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হয় জানুয়ারিতে। আর ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হন ১১ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণার পর।

 

২০১৮ সালের নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষার সময় এই প্রোগ্রামের পরিচালক ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম (পরে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ হন), সহকারী পরিচালক ছিলেন আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আবু তালেব।

 

গত ২৮ আগস্ট আবদুল্লাহ আল মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, নভেম্বরে জারি হওয়া ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাঁদের ভর্তিপ্রক্রিয়া জানুয়ারি মাসেই শেষ হয়। ডাকসু নির্বাচনের আগমুহূর্তে ৩৪ শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তাঁর জানা নেই। নিয়ম মেনে কেউ ভর্তি হয়ে থাকলে কমিটির সদস্য হিসেবে বিষয়টি তাঁর জানার কথা।

 

মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্টের পরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ওই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে পরীক্ষা ছাড়া কেউ ভর্তি হয়ে থাকলে তা অনিয়ম।

 

এই প্রোগ্রামের পরিচালক এবং অফিস সহকারী পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ছাত্রলীগের এই নেতাদের নামের সন্ধান পাওয়া যায় ডাকসুর হলভিত্তিক ভোটার তালিকায়। ভোটার তালিকায় এসব ছাত্রের নামের পাশে বিভাগের জায়গায় কোথাও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, কোথাও এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ভর্তি বিজ্ঞাপন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের ৩৪ নেতা ভর্তি হন

উপাচার্য ও ডিনের চিরকুটে ছাত্রলীগের ওই নেতারা ভর্তি হন

ভর্তি হওয়া নেতাদের মধ্যে আটজন ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত হন

গত ১১ মার্চ ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের একজন অফিস সহকারী প্রথম আলোকে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্য বা ডিনের সই করা চিরকুট তাঁদের কাছে নিয়ে আসেন। এর ভিত্তিতেই তাদের ভর্তি ফরম ও টাকা জমা দেওয়ার রসিদ সরবরাহ করা হয়।

 

এসব ছাত্রলীগ নেতার বিষয়ে প্রোগ্রামের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভর্তির পর থেকে ক্লাস বা পরীক্ষায় এই নেতাদের কেউই অংশ নেননি। প্রথম আলো  কয়েকটি কোর্সের হাজিরা খাতার অনুলিপি সংগ্রহ করেছে, যেখানে এই নেতাদের নাম পাওয়া যায়নি।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.