পলাশে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রী ভিটে ছাড়া

নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ পলাশের ডাঙ্গায় শিশু সন্তানদের সামনে র্নিমমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে জহিরুল নামে এক দিনমুজুরকে। হত্যার ৫ মাস পার হলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিহতের স্ত্রী রেজিনা থানায় মামলা করে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। খুনী সস্ত্রাসীরা এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্য জনক কারনে নীরব। হত্যার বিচার চেয়ে ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে স্বামীর ভিটামাটি ছেড়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অসহায় রোজিনা আক্তার। চিহ্নিত খুনীরা প্রথমে শশুড় ও পরে স্বামী হত্যার পর এবার তার অবুঝ দুই শিশু সহ তাকেও জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়েছে । এ ঘটনা পলাশ থানা পুলিশকে বার বার জানিয়েও কোন ফল পাচ্ছেনা দিশেহারা রোজিনা।
নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে রোজিনা আক্তার জানান, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শত্রুতার জের ধরে গত ১লা বৈশাখ (১৪এপ্রিল) সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে দুই সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। ঢাকায় অবস্থানরত কোটিপতি এক গডফাদারের ইশারায় ৬ বছর আগে তার শশুর ও সম্প্রতি তার স্বামীকে খুন করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এব্যপারে পলাশ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো আট জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা তার মোবাইলে ও আত্মীয় স্বজনের কাছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকী দিয়ে আসছে। ছয় বছর পূর্বে একই আসামীরা তার স্বামীর চোখের সামনে তার শ^শুর সামছুল হককে গলা কেটে হত্যা করে। তখন তার শ^াশুরী নূর জাহান বাদী হয়ে ২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। দু বছর আগে তার শ^াশুরী মারা গেলে সেই মামলার বাদী হয় তার স্বামী জহিরুল হক। বর্তমানে মামলাটি নরসিংদি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামীরা তার স্বামীকে মামলা তুলে নিতে নানভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছিল। এবং তাকেও শ^শুরের মত হত্যা করা হবে বলে জানিয়েছিল। তখন ওই ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেনি বলে হাও-মাও করে কেঁেদ উঠেন। এসময় তার আর্তনাদে উপস্থিত সাংবাদিরাও কেদে ফেলেন। ১লা বৈশাখ বৃহস্পতিবার রাতে মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই আসামীরা দুই সন্তানের চোখের সামনে গলা কেটে স্বামী জহিরুলকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ হত্যার ঘটনায় মামলা করে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বড় অসহায় ও আতংকে দিনতিপাত করছেন বলে রোজিনা আর্তনাদ করেন। মামলা তুলে না নিলে তারা দুই শিশু সন্তানকে ও হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। তাই ভয়ে নিজ স্বামী-শশুরের ভিটে ছেড়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলায় আসামীদের নাম উল্লেখ করলেও পুলিশ এখনো একজন আসামীকে আটক করতে পারছে না। যার করাণে সন্তান নিয়ে রেজিনা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলা করার পর থেকে আসামীরা গাঁ ঢাঁকা দিয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষনিক তাদের খুজে বেড়াচ্ছে। এছাড়া বাদীর নিরাপত্তায় আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *