পাংশায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৭শ মিটার এলাকা ধ্বস

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৫ আগ ২০১৬ ০২:০৮

পাংশায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৭শ মিটার এলাকা ধ্বস

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সাতশ মিটার এলাকা জুড়ে ধ্বসে গিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা ফেলে সেখানে ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করছে। স্থানীরা বলছে, এই বাঁধ ভেঙে গেলে পাংশা ও কালুখালি উপজেলা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। এ অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তিন চার দিন আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অল্প অল্প ধ্বস দেখা দেয় ও কয়েকটি স্থানে ডেবে যায়। ওই সময় স্থানীয়রা বাঁশের পাইলিং করে ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। গত মঙ্গলবার আবারও বড় ধরনের ধ্বসের সৃষ্টি হয়। সাতশ মিটার বাঁধের অন্ততঃ ১৫ জায়গায় এ ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বালুর বস্তা ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক বছর ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনে এলাকার অনেক ঘরÑবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শহর রক্ষা বেরি বাঁধও এখন হুমকির সম্মুখীন। এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু পাংশা শহর নয়, রাজবাড়ী সদর, কালুখালী এমনকি বালিয়াকান্দি উপজেলাতেও বন্যার পানি ঢুকে যেতে পারে। সিসি ব্লক দিয়ে তারা ভাঙন রোধের দাবি জানান তারা।
হাবাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, অনতিবিলম্বে এই বাঁধ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন দুই দিন ধরে আমরা স্থানীয় ভাবে বালুর বস্তা ফেলেছি তাতে কোন কাজ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে জিও ব্যাগ ফেলছে তা সাময়িক। স্থায়ী ভাবে এই বাঁধের মেরামত করা দরকার। এই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে পাংশা শহর তলিয়ে যাবে এক মুর্হতেই।
পাংশা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, পদ্মার মূল চ্যানেল অনেক দূরে রয়েছে। ঢেউয়ের কারণে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ঢেউ এসে পারে আঘাত করায় সাতশ মিটার এলাকা ধ্বসে গেছে। তবে বিষয়টি অতটা গুরুতর নয়। আপাততঃ স্টকে থাকা তিন হাজার জিও ব্যাগ আর স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে শ্রমিক দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে ১৪শ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকের কাজ করা হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
পাংশা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতের জন্য একটি বাজেট তৈরির কাজ চলছে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •