পানি শূন্যতায় শরীরে যা ঘটে

গ্রীষ্মের দিনগুলোতে পানি শূন্যতা দেখা দেয় বেশি। তাই এই সময়ে চাই বাড়তি সাবধানতা।

 

যতটুকু পানি পান করা হচ্ছে শরীর যদি তার থেকে বেশি পানি খরচ করতে থাকে তখনই পানি শূন্যতা দেখা দেয়। জন্ডিস, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানি কম পান করা, প্রচণ্ড বমি ইত্যাদির কারণে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে প্রতি ২০ কেজি ওজনের জন্য দৈনিক এক লিটার পানি পান করতে হবে। অর্থাৎ, কারও ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, তবে তাকে দৈনিক তিন লিটার পানি পান করতে হবে।

 

যারা দিনে প্রচুর পরিশ্রম করেন কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের ক্ষেত্রে পানি পানের মাত্রা আরেকটু বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ‍পান করা না হলে শরীরে নানান রকম প্রভাব পড়ে।

 

রক্তচাপ কমে যাওয়া: শরীরে পানি খরচ হওয়ার অন্যতম খাত হল ঘাম। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। রক্তচাপ কমে গিয়ে মাথা ঝিমঝিম করলে কিংবা বমিভাব হলে পানি পান করা উচিত।

 

হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া: রক্তচাপ কমে যাওয়ার পর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত লয়ে চলতে শুরু করবে। পানি শূন্যতার মারাত্বক পর্যায়ে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

 

শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া: পানি শূন্যতার কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কারণ যকৃত পর্যাপ্ত পানি পায় না, ফলে ‘গ্লাইকোজেন’ নিঃসরণ হয় না। শরীরে কর্মশক্তি সরবরাহের জন্য ‘গ্লাইকোজেন’ জরুরি। আর একই কারণে খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়, বিশেষ করে সোডিয়াম বেশি এমন খাবারের চাহিদা বাড়ে।

 

মুখে দুর্গন্ধ: লালারসে ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান থাকে, যা মুখের দুর্গন্ধ কমায়। তবে শরীরে পানির অভাব থাকলে লালারস তৈরি হয় কম, ফলে মুখে দুর্গন্ধও হয় বেশি।

 

পেশিতে ব্যথা: পানি শূন্যতার অন্যতম লক্ষণ হল পেশিতে ব্যথা। মানবদেহে থাকা বিভিন্ন ধরনের তরলকে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দিতে পানির প্রয়োজন। পানির অভাব দেখা দিলে এই কাজ হয় রক্তের মাধ্যমে। ফলে পেশিতে রক্ত দেরিতে পৌঁছায়, তখন পেশিতে ব্যথা হয়।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য: সবচাইতে বড় কারণ হল পানি শূন্যতা। অন্ত্রে জমে থাকা মলকে বাইরে ঠেলে বের করার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে বাধ্য।

 

অবসাদ: নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দুটোই মেনে চলার পরও যদি পর্যাপ্ত পানি পান করা না হয় তবে অবসাদ আপনাকে ঘিরে থাকবে, ইচ্ছা করবে সারাদিন বসে থাকতে কিংবা ঘুমাতে। এর কারণ হল, পানির অভাবে রক্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছাতে হৃদযন্ত্রের বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

 

বৃক্কে পাথর: পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রসাব কম হবে, আর প্রসাব কম হলে তাতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদানে একত্রিত হয়ে বৃক্কে পাথর তৈরি করবে। আর আপনার কফি ও লবণ খাওয়ার মাত্রা বেশি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকবে।

 

এসব জটিলতা এড়াতে দৈনিক কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *