Sun. Nov 17th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

পাহাড়ের শহর কালিম্পং যেন স্বর্গরাজ্য

1 min read

হটাৎ অদ্ভুত এক অনুভূতি। এই ছিল রোদ, হটাৎ ভিজে গেল হাত-মুখ-চোখ। বুঝতে কষ্ট হলো না, মেঘ ছুঁয়ে গেল আমাদের।

 

ঠিক আছিস তো, কই তুই?

 

আরে এই তো আমি! কিন্তু অন্যরা কই গেল? সামনেই তো ছিল! এত তাড়াতাড়ি গেলই বা কোথায়?

 

ওই যে, ওই যে, কিন্তু দেখা যাচ্ছিল না কেন?

 

মেঘে ঢেকে ছিল কী! হ্যাঁ… তাই তো! ওই যে আবার আসছে!

 

এই চলে গেল! কী দারুণ! কি অদ্ভুত! কী অসাধারণ! কী বিস্ময়! আমরা মেঘে ঢাকা! এগুলো মেঘেরই অশ্রু! মেঘেদের চলাচল, আমাদের চারপাশ ঘিরে।

 

 

 

এই ছিল কালিম্পংয়ের ডেলো লেকের উপত্যকায় আমাদের অনুভূতি। রোদের মধ্যে হটাৎ মেঘে ঢেকে গেল চারপাশ। কিছুটা ভিজে গিয়ে আর অন্যদের ক্ষণিকের জন্য দৃষ্টি সীমার বাইরে গিয়ে আমাদের বিষম বিস্ময়! সবাইকে ডেকে বললাম, বিতর্কটা স্বার্থক! কারণ আসার আগে ‘মিরিখ না কালিম্পং?’ এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। শেষমেষ সবাইকে বুঝিয়ে কালিম্পং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।

 

পাহাড়ের শহর কালিম্পং। ক্যাকটাস-অর্কিডের শহর কালিম্পং। তিব্বতী, সিকিমি, ভুটানী ও নেপালী জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র কালিম্পং। সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য শহর কালিম্পং। পাহাড়ের বিশালতা, উপত্যকার নিবিড় সবুজ গালিচা, উপত্যকা মধ্যবর্তী তিস্তা, রেলি ও রিয়াং নদীর উচ্ছ্বল ছুটে চলা এবং মৌনি কাঞ্চনজঙ্ঘার চাহনি! এতো সুন্দর জায়গা, বর্ণনা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। নামটার মধ্যেই কেমন যেন অন্য রকম ভালো লাগার নির্যাস। শান্ত সৌম্য কিন্তু সজাগ। হাওয়া বদল কিংবা নিভৃতবাসের উত্তম জায়গা। পরিবেশ আর জীবন কীভাবে একাকার হয়ে গেছে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

 

 

 

আমাদের গাইড বললেন, মিনিট দশেকের মধ্যেই হোটেলে পৌঁছে যাব। পাইন ভিউ নার্সারি থেকে জিপে উঠলাম। দুই পাশে পাহাড়। মাঝ দিয়ে সরু রাস্তা। হাইওয়ে থেকে এটিই চলে গেছে কালিম্পং শহরে। কিন্তু আপাতত আমাদের গন্তব্য শহরের দিকে নয়। ‘ওই দেখেন দেখেন’ শাহেদ হঠাৎ বলে উঠলেন। কি দেখব? ওই যে লম্বা সাদা ফুল ফুটে আছে রাস্তার ধারে। সত্যিই তো। ফুলটা ব্যতিক্রমী। মিলটন গাড়ির ভেতর থেকেই ছবি নিলেন। ঠিক ভুভুজেলা বাঁশির মতো দেখতে। নাম জানিনা আমরা কেউই।

 

কালিম্পং এর চারপাশেই বিশাল বিশাল একেকটা পাহাড়। আকাশে হেলান দিয়ে আছে। অফুরন্ত সবুজ। তারই মাঝে বাড়িঘর। এখানে প্রাণ আছে, এখানে শান্তি আছে। এখানে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। আরো আছে নদী-উপত্যকা, মাঝে-মাঝে গা ছমছমে অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া গুহার মতো লুপ! ইট বিছানো রাস্তা, কখনো পীচ ঢালা, কখনো শুকনো পাতা ঝরা মর্মর ধ্বনি, কখনো দূর ঝরনার জলের উচ্ছ্বাস, কখনো মিহি বাতাসের শীতল পরশ, কখনো নেমে যাওয়া আর নেমে যাওয়া আর কখনো জীপের হাইকিং!

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.