পাহাড়ী জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৯ আগ ২০১৬ ০২:০৮

পাহাড়ী জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া

Naikhongchori Pic-1

রেজাউল হক বোরহান, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পুর্ব প্রান্তে পাহাড়ী জনপদ নাইক্ষ্যংছড়িতে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। চার পাশে গহীন অরণ্য ও পাহাড়ে বেষ্টিত হওয়ার পরও এখানকার মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আসছে। পাহাড়ের উঁচু নিচুতে ছোট্ট ছোট্ট ঘর। মাঝখানে চোখে পড়ে পিচঢালা রঙ্গিন রাস্তা। উপজেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টা ও স্থানীয়দের সহায়তায় এই অঞ্চলে গড়ে উঠছে একের পর এক সরকারি উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের এক মাত্র গয়াল প্রজনন কেন্দ্র, বৈদেশিক রপ্তানিকৃত চা পাতার বাগান, রবার বাগান, ভূগর্ভস্থ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সম্ভাবনাময়ী তৈল ক্ষেত্র ও সীমান্তবর্তী মিয়ানমার বাংলাদেশ মৈত্রী বাণিজ্য বন্দর সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চটির তুলনায় অনেক এগিয়ে। ইতোমধ্যেই এখানে ১৬৩ একরের বিশাল এলাকা নিয়ে সরকার গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনিস্টিটিউট এর গবেষণা খামার। যেখানা গবেষনা করা হয় বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির পশুপাখির। এছাড়াও এই দূর্গম অঞ্চলে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র, শিশুপার্ক, একটি সরকারী কলেজ, চারটি মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৫টি, উচ্চ বিদ্যালয় চারটি। তাছাড়া অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ী বাঙ্গালী তরুন যুবকরা মিলিত হয়ে মাদকমুক্ত উপজেলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছে এখানকার যুব সমাজ। সম্ভাবনাময় এই উপজেলাতে রয়েছে শিল্পায়ন ও কৃষিতে উন্নয়নের অপার সম্ভবনা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহিদ মিনার ও তার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে রঙ্গিনবাতীসহ মনোরম ঝর্ণা। যা সোভা বাড়িয়েছে পাহাড়ী এলাকায়। পাশেই রয়েছে স্মৃতিসৌধ।
এসব উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে উপবন লেক নামে গড়ে উঠেছে একটি পর্যটন কেন্দ্র। চার পাশে গহীনবন পাহাড় আর মাঝখানে ঝুলছে লম্বা সেতু। সেতুর চারপাশে গানের তালে তালে চলছে নৌকা ভ্রমণ। হাতছানি পড়ছে সবুজ জলরাশিতে। দৃষ্টি যাচ্ছে অরণ্য ঘেরা সবুজ পাহাড়ি বৃক্ষে। এমন ছায়ানিবিড় সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রেমিদের থাকছে কক্সবাজারের পার্শবর্তী বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বিনোদন বঞ্চিত এই উপবনে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। ধারাবাহিক উন্নয়নে এখন নতুন করে আর্কষণ বেড়েছে ‘পাহাড়ি কন্যা’র কদর। দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ, বিভিন্ন বিনোদন, ভ্রামনের পরিপূর্ণতা, নিজের মাঝে প্রকৃতির প্রেম খুঁজে নেওয়া, আগতদের সাথে উপবনের মিতালি ও নিজের পছন্দের মানুষকে নিয়ে অবসর সময়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই নাইক্ষ্যংছড়ির এই ঐতিহ্যকে করা হয়েছে আধুনিকায়ন। দম্পতির জন্য গড়ে তোলার উদ্যোগে রয়েছে পরিবেশ বান্ধব ‘হানিমুন কটেজ’। সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিদর্শন নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেক ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
এসময় কথা হয় এক ওমান প্রবাসী পরিবারের সাথে। তারা বলেন- বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও সিলেটসহ অনেক পর্যটন এলাকার চেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির এই পর্যটন কেন্দ্রেটি অন্যরকম। মূল ষ্টেশন থেকে গাড়ি বা পায়ে হেঁটে আঁকা বাঁকা পিচঢালা রাস্তা বেয়ে উপবনের গেইটে পৌঁছানোর বিষয়টি খুবই চমৎকার। গেইটের ভিতরে ঢুকতেই হাতের দু’পাশে উঁচু নিচু সিঁড়ি ও মাঝখানে খোলা মেলা ছাউনির গোল ঘর অসাধারণ। একটু দুরে এগুলে নজর কাড়ে ডানে বামে দুটি গাছের উপর কাঠের আকাশ বাড়ি। যা আপনাকে ভ্রমণের বেশির ভাগেই এগিয়ে নিবে। ঠিক আকাশ বাড়ির নিচেই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলেই ভ্রমনের মূল বিষয়বস্তুু লম্বা ঝুলন্ত সেতুতে রাখতে পারবেন পা। এর পর দুলে দুলে উপভোগ করা যাবে নাইক্ষ্যংছড়ি লেকে আসার স্বার্থকর্তা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি অধ্যাপক শফি উল্লাহ বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাটি অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক এগিয়ে। এখানে রয়েছে সীমান্তবর্তী মিয়ানমার বাংলাদেশ মৈত্রী বাণিজ্যের অপার সম্ভবনা। তাছাড়াও এখানে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে একারনে আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। উপজেলার প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দূর্গম এই অঞ্চলের উন্নয়নে সহযোগীতা করে যাচ্ছি। শিক্ষা ব্যবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা। এখানকার হাজী এম এ কালাম ডিগ্রী কলেজটি সরকারি করন হয়েছে।
এছাড়াও উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে হলো উপবন লেক। যার মূল আর্কষণ ঝুলন্ত সেতু ও নৌকা ভ্রমণ। তবে বাড়তি আনন্দের বিষয় হলো লেকে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার কার। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দিক নিদের্শনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল উপবনটি। সৌন্দর্য ও উপভোগের জায়গাটি ঘাটতি ছিল। এতে আগতরা মূল আকর্ষণ এক প্রকার হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমানে উপবনটি অতিতের ছেয়ে আরও যৌন্দর্য্য পেয়েছে। যৌবন ফিরে পেয়েছে ‘পাহাড়ি কন্যা’। গত একবছর ধরে উন্নয়ন বাড়ছে উপবনে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়াত মোঃ শাহেদুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি একটি দূর্গম পাহাড়ী এলাকা হলেও আমরা এই দূর্গমতাকে জয় করার চেষ্টা করছি। এখানে দূর্গমতা বলতে আমরা কিছু মেনে নেই নি। এখানে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বজায় রয়েছে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসন চেষ্টা করে যাচ্ছি পাহাড়ী এই অঞ্চলটিকে এগিয়ে নেয়ার।
পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যটন কেন্দ্রেটি উন্নয়ন বা সৌদর্য্য বাড়নোর জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। কোথাও থেকে করা হচ্ছে না তেমন কোনো সহযোগিতাও। যেসব উন্নয়ন করা হচ্ছে তার সব অর্থ ব্যয় হচ্ছে পর্যটকদের কাছ থেকে টিকেট বাবদ যেসব টাকা পাওয়া যাচ্ছে ওখান থেকে। এর পরেও আরো অনেকভাবে উপবনকে সাজানো হবে বলে তিনি জানান।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ