পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে বিউটি

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন বাধা নয় এমনটিই প্রমাণ করল জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের অদম্য মেধাবী প্রতিবন্ধী বিউটি আকতার। সে চলতি বছর একই উপজেলার আকলাশ শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

বিউটি আকতার উপজেলার শিবপুর গ্রামের দরিদ্র বায়েজীদ হোসেনের কন্যা। বায়েজীদ হোসেনের অভাবী সংসারে দুই সন্তানের মধ্যে বিউটি আকতার কনিষ্ঠ। বড় ছেলে রহমান নিজ প্রচেষ্টায় স্নাতক পাশ করে বগুড়ায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেলস মেন হিসাবে কাজ করেন।

একই গ্রামের সহপাঠি শিক্ষার্থী রোখসানা পারভীন, গ্রামবাসী রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, পার্শ্ববর্তী মহেশপুর গ্রামের আলম হোসেনসহ এলাকাবাসী জানান, ইতিপূর্বে বিউটি আকতার পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমপানী এবং নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি লাভ করেছে। তার এমন সাফল্য রীতিমত ক্ষেতলাল উপজেলা সহ জয়পুরহাটবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সকল প্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে লেখাপড়ার প্রতি অদম্য ইচ্ছা শক্তি থেকে বিউটি আকতার তার কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলেছে। পড়া লেখা শেষ করে বিউটি আকতার একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়।

এ বিষয়ে বিউটি আকতার অত্যন্ত বলিষ্ঠ কন্ঠে সংবাদ কর্মীদের জানান, ‘ইচ্ছা থাকলে একজন মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। এ পথ চলায় আপনাদের সহযোগিতা এবং দেশবাসীর দোয়া আমার কাম্য।’

এ ব্যপারে বিউটি আকতারের বিদ্যালয়ের শ্রেনী শিক্ষক একরামুল ইসলাম উজ্জল জানান, তার মধ্যে লেখা পড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা শক্তি লক্ষ্য করেছি। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত এবং সে নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী মনে করে না। বিদ্যালয়ের সহশিক্ষামূলক সকল কার্যক্রমে তার স্বতসফূর্ত অংশ গ্রহন ছিল। ‘আমি আশা করি বিউটি এবারও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হবে’ বলে জানান শিক্ষক উজ্জল।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকাম উদ্দীন আকন্দ জানান, বিউটি আকতার অত্যন্ত সাবলীল ও সুন্দর আচণের অধিকারী। দোয়া করি তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক। সেই সঙ্গে তার উচ্চ শিক্ষার পথকে সুগম করার জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা সহায়তা করলে তার পরিবার উপকৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.