পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন : শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক তৎপরতা

মাহামুদুর রহমান মাসুদ, পিরোজপুর ঃ
পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম এবং তার প্রতিদন্দ্বী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। দু’জনেরই বাড়ি জেলা সদরের বাইরে স্বরূপকাঠি ও ভান্ডারিয়া উপজেলায়। তাই এ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সাথে সদরের নেতাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তাই নির্বাচন নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের ব্যপক তৎপরতা লক্ষ করা মতো। এর প্রভাব পরছে জেলার সবকটি উপজেলায়।
ইউপি সদস্যদের (ভোটার) সাথে কথা হলে তারা জানায়, আগে চেয়ারম্যান পদে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিয়ে তার ছবি মোবাইল ফোনে তুলে এনে দেখানোর নির্দেশ ছিল প্রভাবশালীদের। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ হওয়ায় নতুন নির্দেশ এসেছে নিদির্ষ্ট মার্কায় সিল দিতে হবে কেন্দ্রে থাকা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাশালী একই ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ¦ীতা করায় সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।
নতুন এ চাপে পরে অনেকটাই আতকিংত পিরোজপুর জেলার বিশেষ কয়েটি উপজেলার ভোটাররা। ফলে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংঙ্কা প্রকাশ করছে কাপ পিরিচ মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভোটারদের (ইউপি সদস্য) আওয়ামীলীগ সমর্থিত অধ্যক্ষ শাহ আলমের মার্কায় কেন্দ্র তার এজেন্টকে দেখিয়ে ভোট দেয়ার হুমকি দিয়েছে তার পক্ষের প্রভাবশালীরা। মঠবাড়িয়া উপজেলায় ইউপি মেম্বারদের আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর ব্যলটে দেখিয়ে সিল দেয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এ নেতার নিজের নির্বাচনে বিজয়ী হবার প্রক্রিয়ার কথা মনে করে তার হুমকিতে আতকিংত হয়ে পড়েছে ইউপি মেম্বাররা। সদরের ভোটাররা তাদের বলয়ের নেতাদের নির্দেশে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে এ চাপে অসস্তিতে রয়েছে। এ দুই প্রার্থীর উভয়ের বাড়ি উপজেলা পর্যায় হওয়ায় তাদের পক্ষ বিপক্ষে থাকা জেলার শীর্ষ নেতাদের স্বার্থের কারনই নির্বাচন নিয়ে শংঙ্কার মুল কারন। নির্বাচন নিয়ে এ দুজনকে সামনে রেখে যে কেউ বড় কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে এমন আশংঙ্কাও করেছে অনেকে। ইতিমধ্যেই ভোটারদের নানা হুমকি দেয়া ও চড়াও হবার যে সব ঘটনা ঘটেছে তার সাথে প্রার্থীর পক্ষে থাকা বিভিন্ন উপজেলার প্রভাবশালী নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধির জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলার নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি দোবড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার মাসুদ রানা জানান, তিনিসহ কয়েকজন মেম্বার এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে দেখা করাতে যাবার সময় মধ্যপথে তাদের উপর মোটরসাইকেলের মহড়াদিয়ে চড়াও হয় কিছু যুবক এবং তাদের পথ থেকে ফিরে আসতে হয়।
তাদের চিনলেও নাম জানতে অস্বীকার করে মাসুদ বলেন তারা ক্ষমতাসীনদলের এক জনপ্রতিনিধির লোক।
মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডেও মেম্বার মোঃ কাউম ও ৭ নং ওয়ার্ডেও হারূন অর রশিদ জানান, তাদের উপজেলার প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধি আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট দেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এ প্রার্থীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই, এমনকি নির্বাচন উপলক্ষে তাদের সাথে কোন কথাও বলেননি। এমন কথা জানালে ওই নেতা তাদের ভোট না দিলে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। এ ধরনের হুমকি রয়েছে বিভিন্ন উপজেলার মেম্বারদের উপর।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী মানতে অস্বীকার করে বলেন, এটি কোন নির্বাচন নয়। দলীয় মানে নৌকা মার্কা থাকলে তিনি প্রার্থী হতেন না। তার সাথে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা কাজ করছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের নানা হুমকি ও হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া দলীয় কিছু মেম্বার তার সাথে দেখা করতে আসার পথে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবেন।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহে আলম জানান, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠ আছে। তার পক্ষে দলীয় ৯৫ ভাগ নেতা কর্মী কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এধরনের কোন ঘটনা নেই। তার পক্ষ হয়ে অন্য উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের হুমকির বিষয় বলেন, সব জায়গায় ভাল মানুষের মধ্যেই দু’এক জন দুষ্ট মানুষ থাকে। এরা হয়তো আমাকে বিপদে ফেলার জন্য এসব কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.