প্রধানমন্ত্রীকে মাহবুবের খোলা চিঠি

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীকে মাহবুবের খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  উদ্দেশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক খোলা চিঠি লিখেছেন  বাংলানিউজইউএসডটকম এর মধ্যপ্রাচ্য এডিটর মাহবুবুর রহমান। লেখাটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল।

 

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েই টানা তৃতিয় মেয়াদের ক্ষমতার এক বছর  পূর্ণ করার পথে  আপনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নবম ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয়   সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আপনি । এই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে আপনার নেওয়া পরিকল্পনা । বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

সরকারের টানা এগারো বছরে দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকলেও সে পথ মসৃণ ছিল না। জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ এখন মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৮৪৩ থেকে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, বিনিয়োগ ২৬.২৫ শতাংশ থেকে ৩০.২৭ শতাংশ, রফতানি ১৬.২৩ থেকে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ১০.৯৯ থেকে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ ১০.৭৫ থেকে ৩৩.৪১ বিলিয়ন ডলার এবং এডিপি ২৮৫ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়ন টাকা।

এই যখন অবস্থা আপনি শুরু করেছন আরেকটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।দলের ভেতরে ও বাইরে শুদ্ধি অভিযান। যা সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। দল এবং দেশের জন্য ক্ষতিকারক ব্যাক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে যে  কার্যক্রম শুরু করেছেন তা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। এই অবস্থায় পরীক্ষিত সৎ ও মেধাবী নেতাদের  কাজে লাগানোর অনুরোধ জানাতেই এই অধমের দু কলম লেখা।

 

বলছি সেই সৎ কর্মট ছাত্র নেতার কাথা।  ছাত্রলীগ সভাপতি থাকাবস্থায় যিনি চষে বেড়িয়েছন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে  পাথরিয়া।

১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের কঠিন সময়ের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম যে জয় আসে তা সাবেক ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের আহমদের হাত ধরে। ১৯৮৯ সালে ডাকসু’র ভিপি পদে তার বিজয় ছিল ’৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো জয়। সেই জয়ের মাধ্যমে তার নেতৃত্বে ’৭৫-এর পর প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি স্থান পায় ডাকসু ভবনে।

 

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অনেকেই মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখানেই শেষ। তাই অনেক নেতাই সে সময় ভিন্ন পথ ধরেছিলেন। কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ কারণে জীবনের বড় একটা সময় কাটাতে হয়ছে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ে আত্মগোপনে।

 

’৭৫-এর পর প্রথম ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে ডাকসুর ভিপি হয়ে তিনি পাদপ্রদীপে এসেছিলেন। ১৯৬৮ সাল থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অবিচল থেকে যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন তা আজও করে যাচ্ছেন। গত নির্বাচনে  ঐক্যফ্রন্টে থেকে নির্বাচনে অংশ নিলেও লাখো সরকারবিরোধী কর্মীর সামনে আঙুল উঁচিয়ে বলে যাচ্ছেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। বারবার বলে যাচ্ছেন, ‘আজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়েই চলবেন’।

সৎ, পরিচ্ছন্ন ও সুনীতির ব্যক্তি সুলতান মনসুর মেধাবী, আদর্শবান ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে আশির দশকে সারা বাংলাদেশ কাঁপিয়েছিলেন। নেতৃত্বগুণে শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হতেও তার সময় লাগেনি। আপনার আস্থাভাজন হয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। এর প্রমাণও দিয়েছিলেন সে সময়। দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে তার সক্রিয় রাজনীতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

হে মাদার অব হিউম্যান – আপাদমস্তক একজন মুজিব সৈনিক ১০ বছর রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকলেও যোগ দেননি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে।

সৌভাগ্যক্রমে আমিও সেই নেতার নির্বাচনী এলাকা  মৌলভীবাজার ২ কুলাউড়া আসনের একজন বাসিন্দা। আমরা গত নির্বাচনে ভোট দিয়েছি বিসমিল্লাহ বলে বক্তব্য শুরু করা, মুজিবকোট পরা,

আপাদমস্তক একজন মুজিব সৈনিক যার নির্বাচনি বক্তব্য শেষ হত জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ অনুরোধ ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে নিন।  ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে এই প্রত্যাশায় লাখো মুজিব সৈনিকের মত আমিও একজন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •