বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন কাম্য নয়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১১ আগ ২০১৬ ১০:০৮

বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন কাম্য নয়

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত । এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহ মানুষকে শ্রেষ্ঠ মাখলুকাত হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। মহান রাব্বুল আলামিন মানুষের প্রয়োজনই মানুষকে দুই জাতে বিভক্ত করেছেন। এক পুরুষ জাত, দুই নারী জাত। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এখানে নারীকে ইসলামে দিয়েছে সর্ব্বোচ্চ সন্মান। সেই নারীকে অবমাননার চেষ্টা সেই অনাদিকাল থেকেই, প্রথমে নারীকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। সেই ধারা বাতিল হবার পর ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে বিভিন্ন কলাকৌশল নারীকে অপমানের। নারী যেন এক শরমের বস্তু! সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতির আবহমানধারা যখন প্রসার ঘটে চতুর্দিকে তখন চলে নিত্য আধুনিক কারসাজি,পশ্চিমা সংস্কৃতি ঢুকে পড়ে রন্দ্রে রন্দ্রে। বাংলার আবহমান ফেলে বাঙ্গালি অন্যের সংস্কৃতিতে মত্ত হয়ে পড়ে। সব কিছুর উন্নতি হলেও বাংলার নারীর যৎকিঞ্চিৎ উন্নতির আড়ালে চলে নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহারের মহোৎসব।
৮০ এর দশকে এই দেশে মিডিয়া একটি স্থান গড়ে নিতে সক্ষম হয়। মিডিয়াকে হৃষ্টপুষ্ট করতে প্রয়োজন হয় বিজ্ঞাপনের। বিজ্ঞাপনদাতারাও নিজেদের বহিঃপ্রকাশের আশায় মিডিয়ার দারস্ত হতে হয়। এটা নিজেদের প্রচার প্রসারের মোক্ষম অস্ত্র। দৈনিক খবরের কাগজ হতে শুরু করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নারী হয় বিভিন্ন দ্রব্যের পন্য। নারী ছাড়া কোন বিজ্ঞাপন যেন কল্পনাই করা যায়না। গোড়াতে কোন ভাল পরিবারের মেয়ে এই জগতে না আসলেও ৯০ দশক থেকে ভাল ঘরের মেয়েরাও পন্য হতে ছুটে আসে। এই ফাঁকে দাতাগণ কিছু নিজেদের ফায়দা লুটে নেয় সর্বস্ব।
যদিও নারী তার অধিকার আর কর্মসংস্থানের জন্য ঘর হতে বাহির হয়,স্বাভাবিকতায় তাকে কোন কোন পথ খুজতে হয় অর্থের যোগানে। বিজ্ঞাপন সংস্থার অতি আকর্ষনিয় লোভ নারীকে পন্য হতে সহযোগিতা করে। সারাদেশে বিলবোর্ডে স্থান পায় নারী। রাস্তায়,সিনেমায়, টিভি,রেডিও, গাড়ী,কোথায় না ঝুলে নারীর দেহ দিয়ে প্রদর্শনের রঙ্গিলা ছবি। কিছু পেতে হলে নাকি দিতে হয় এই বিশ্বাসে নারী এগিয়ে যায় সন্মুখ পানে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই ফলাফল জিরো। নারীর অপমান,নারীকে ভোগপণ্য ভাবা যদিও নতুন কিছু নয়, তথাপি চলে নিত্য নতুন কায়দা। স্কুলকলেজে নারীকে টিজ,মোবাইলে নারীকে টিজ । ২০০০ থেকে ২০০৬ সালের দৈনিক কাগজে এ নিয়ে বিভিন্ন কলাম ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অনেক আলোচনা ও সেমিনার হয়। বলা হয়-সেলফোন বা মোবাইল বর্তমান শতাব্দির জন্য এক অবিস্বরনীয় যোগাযোগ মাধ্যম বলার অপেক্ষা রাখেনা যে ,এতে করে সমাজের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে । মোবাইল ফোন এমন কোন ব্যাপারই না। যেমন ব্যাপার না বখাটে ছেলেদের জন্য মেয়েদের উত্যক্ত করা। তেমনি মোবাইল ফোনের ব্যাবহারও চলে গেছে এক অভদ্র সীমানায়। বখাটেদের উৎপাতে আত্বহত্যার ঘটনা ও ইভটিজিং এর সৃষ্টি । স্বপ্না,তিথি,রুমি,তৃষ্ণার মত মেয়েরা আত্বহত্যার মত বিভিষিকাময় মৃত্যুর পথে পা বাড়ায়। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, আজও মোবাইলের উৎপাতটি জোরেশোরেই জীবীত। যেভাবে পরিচয় হোক,মোবাইল নাম্বার না হলে ছেলেদের পেটে ভাত হজম হবেনা। ২০১৪ সালে ফেনী শাহিন একাডেমী স্কুলের ছাত্রীকে বখাটে পায়েল এইভাবেই উত্যক্ত করতো। আমরা অনেকেই হয়ত খেয়াল করিনি আরেকটি টিজ কিভাবে জানা অজানায় নারীর জীবনকে করছে বিমর্ষ। নতুন না হলেও পুরাতন টিজ টাকায় লিখে নারীদের নাম-নাম্বার লিখে একটু ভালবাসা চাওয়া কোন ধরণের ভদ্রতা পুরুষের, ভাবতে অবাক হবার কথা। নারীর নাম ব্যবহার করে এই র্নিলজ্জ কাজটি সমাজের কোন শ্রেণীর মানুষের পক্ষে সম্ভব তা আসলে সচেতন মানুষের বুঝতে বাকি থাকেনা। ওরা সমাজের মধ্যে ভদ্রতার মুখোশ পরা এক ধরনের শিক্ষিত মানুষ,যারা নিজের আত্বসন্মান বিকিয়ে দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করে সেই সঙ্গে কোন নারীকেও অপমান করে বসে।এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নরকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া অতি জরুরী। ১২ বছরের ছেলে অর্ক কে মা দোকানে পাঠায় ২০ টাকার নোট দিয়ে ,অর্ক যেতে যেতে টাকার দিকে চোখ রাখতেই দেখে-সোমা একটু ভালবাসা দাও-০১৮৩২৫৩৭৬৮৫-রাজীব। অর্ক দোকানে না গিয়ে ছুটে যায় তাদের পাশের বাসার কাজের মেয়ে সোমার কাছে। সোমা কিছু বুঝতে পারেনা। অর্ক পড়ে শোনায়। পাশেই ছিল গৃহকর্তা। অর্কের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেখে সোমার কাছে ভালবাসা চাওয়ার রাজীবের নাম। পড়েই তিনি অগ্নি শর্মা। সোমাকে মারতে থাকেন আর বলেন এতই যদি তোর ভালবাসার দরকার ছিল আমাকে বলতি,আমি দিতাম তোরে ভালবাসা। সোমার সেই ঘরে ঠাঁই আর হয়না। ঘটনাটির জন্য যদিও ঐ সোমা দায়ী ছিলনা,তথাপিও এই হতভাগী সোমার নাম মিলে যাওয়াতে আর অবুঝ ছেলে অর্কের ভুলে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার জন্য দায়ী টাকায় যার নাম ও নাম্বার সেই রাজীবের। এক আত্বীয় মারফত শোনা ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে। এরপর সারা বাংলাদেশে অহরহ ঘটে যাচ্ছে এই অপকর্মটি। কিছুদিন আগে বাজারের এক কাঁচা বাজার বিক্রেতা একটি পাঁচ টাকার নোটে পড়ে- ”মেয়েরা ছেলেদের খোরাক।”আরও অরুচিকর লেখা পড়েই তিনি নোটটি ছিঁড়ে ফেলেন। জানতে চাইলে ক্ষুদ্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন । দেশে এসব কি হইতেছে,শরম লাগে । এই বিশ্রি ,অসস্তিকর ঘটনার জন্য অনেকে অনেকসময় বিব্রত হন-অশ্লিল শব্দ প্রয়োগে যখন টাকায় লেখা হয়। জীবনের চালিকাশক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ অর্থ,আর সেই অর্থেই কিনা নারীকে ইভটিজিং। প্রতি মুহুর্ত, প্রতি সেকেন্ডে সেই অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। একজন থেকে শিখে আরেকজন এ কাজ করছে। ফলাফল দেশের কিশোর-তরূণ ধ্বংস সমাজের কিছু অংশ বখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এই ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ এবং আইন তৈরির জন্য সরকারী উদ্যোগ নিবেন তাহলেই নারীকে অপমানের এই জঘন্য ইভটিজিংটি চিরতরে বন্ধ হবে।
সাহিদা সাম্য লীনা, সম্পাদক মাসিক আঁচল। ফেনী।

এই সংবাদটি 1,249 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ