প্রসঙ্গ মাইকে আযান

সাইফুর রহমান কামরান:সম্প্রতি সনু নিগম মাইকে আজান দেয়া নিয়ে টুইটারে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।আর একে কেন্দ্র করে দুই দল দুই তীব্র অবস্থান থেকে  বাক্যবান হেনে চলেছেন কোন যুক্তির’ ধার না ধেরে। এখানে কেবল ধর্মিয় আবেগ আছে।

 

মাইকে আজান দেয়ার কোন বিধান কোথাও নেই। তবে কেন মাইক দরকার? উদ্দেশ্য বেশী লোকের কাছে নামাজের আহবান জানানো।

অনেকে বলবেন পাচ মিনিটের আজান কি এমন অসুবিধা করে?আমি একজন মুসলিম,  আমার তাতে কোন অসুবিধা হয়না, আমি আজানের শব্দে ভাল বোধ করি।কিন্তু আমি এটাও বুঝি আমার অমুসলিম প্রতিবেশীর অনুভূতি আমার মত নয়। তিনি মুসলিম প্রতিবেশীর সম্মানে মুখে কিছু বলেন না।

 

দেশে আমার বাসার পাশেই দুর্গাপূজা হতো।

৫ দিন ধরে প্রায় সারাক্ষণই ঢাক বাজানো হতো। আমার হৃদরোগী বাবার তাতে খুব অসুবিধে হতো। কিন্তু আমরা তা হাসিমুখে মেনে নিয়েছি। কারণ  পুজোর আনন্দ ছিল আমার আত্মীয়ের বেশী কাজলদার, কার্ফুদার, মাসিমার , আমার অগণিত বন্ধু-প্রতিবেশির।যাদের হাসি আনন্দে আমার আসে যায়।আমার মা বলতেন ছোটবেলায় খেলতে গিয়ে মাসীমার ঠাকুর ঘরে অনেকবার ঢুকে পড়েছি। মাসীমাকে তার জন্য কত কষ্ট  করতে হয়েছে।কিন্তু আমার ও বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়নি।মাসীমা (কাজলদার মা)আমাকে তার ছেলেদের চেয়ে কম আদর করতেন না। তার মঙ্গল হোক।

 

এখন নাকি দিন বদলে গেছে। কে বদলালো দিন, কার লাভের জন্য?

 

আমি মুসলিম, আমি আমার রিলিজিয়নটা বুঝি। আমি জানি এর  মুল স্পিরিট কি।প্রিয় নবী (সা:) উগ্রতার সমর্থন করেননি, শান্তির জন্য সন্ধি করেছেন, অন্যের প্রতি শ্রদ্বাশীল ছিলেন।ফিতনার বিরুদ্ধাচার করেছেন।অন্য বিশ্বাসের শবযাত্রার সময় দাঁড়িয়ে শ্রদ্বা দেখিয়েছেন।তাই যখন এ জাতীয় পরিস্থিতি দেখি আমি ভাবতে চাই প্রিয় নবী এখানে কি করতেন। তিনি সেই নবী  যিনি কাটার আঘাতকারীকে সেবা দিয়ে সারিয়ে তুলেছিলেন।তাই তার উম্মত হিসেবে এমন কিছু করব না যাতে তার অনুমোদন নেই।

 

আমাদের মসজিদে ফজরের জামাত সবচেয়ে ছোট। মুয়াজ্জিন যখন বলেন” ঘুম থেকে নামাজ উত্তম” তখন আমরা ঘুম্যটাকে উত্তম মনে করে ঘুমিয়ে পড়ি। যাদের নামাজের অভ্যাস নেই, তাদের কানের কাছে আজান দিলেও শুনতে পাবেন না।রোজার দিনে মাইকে যতই ডাকা হোক না কেন তাদের ঘুম ভাঙানো যাবে না। অথচ সনু নিগমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে সবার আগে তারাই থাকবেন।

আমেরিকায় আজান শুনতে পাওয়া যায়না, তাতে যার নামাজ পড়ার তার কিছুমাত্র অসুবিধা হয়না।

 

আমি সনু নিগমের সমর্থন করছিনা। তিনি যা বলেছেন সে তার নিজের মত। সে অধিকার তার আছে। এর জন্য তাকে কাচা খেয়ে ফেলতে হবে না। কিছু বলার থাকলে টুইট করুন।

 

তবে আজকের এই যুগে যেখানে সবক্ষেত্রে টেকনোলজির সাহায্য নেয়া যায় সেখানে আজান, ওয়াজ কিংবা পুজার ক্ষেত্রে শুধু নয়, জনসভাসহ সকল ক্ষেত্রে মাইকের বাবহার সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *