প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার নিয়ে আওয়ামী লীগের হিসাব

১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩ জন ভোটার নিয়ে হিসাব করছে আওয়ামী লীগ। দলটির হিসাবে ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৫ জন, মহিলা ভোটার ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৮ জন। ভোট কেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টি। মোট ভোট কক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এসব পরিসংখ্যান ধরে সমীকরণ করছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানও করা হয়েছে। এসবের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের পাশাপাশি ৮ বিভাগে ‘নির্বাচন পরিচালনা’ কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া নতুন ভোটারদের নিয়ে পরিকল্পনা সেল, মিডিয়া সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট সমন্বয় করারও টিম গঠন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনী আসনে, উপজেলায় এবং কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে। শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের এজেন্ডায় ৩০শে অক্টোবর থেকে ২৯শে জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারণ করে পরিকল্পনা করা হয়। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করে আওয়ামী লীগ। এ কমিটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম ও সদস্য সচিব ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সব সদস্য ছাড়াও ১৩৭ সদস্যের কমিটিতে সহযোগী ৭ সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। সংগঠনগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ। আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, উপদেষ্টামণ্ডলীর সকল সদস্য, সভাপতিমণ্ডলীর সকল সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সকল সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, উপদপ্তর সম্পাদক, উপ-প্রচার সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, কার্যকরী সংসদের সকল সদস্য, সহযোগী সংগঠনের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। শনিবার ছিল একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের কৌশল ঠিক করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন নেতা জানান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বিভাগীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে দলীয় প্রধান তা নাকচ করে দেন। এরপর প্রতিটি জেলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে সম্মতি দেন। বৈঠকে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মতিন খসরু, আখতারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন নেতা। বৈঠকসূত্র জানায়, যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশে প্রকাশ্য বক্তব্য ও বিষোদগার করছেন তারা যোগ্য হলেও কোনোভাবেই তাদের মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। কারণ, এতে এমপিদের সমালোচনা করতে গিয়ে নৌকার ভোট নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভুল ধারণা যাচ্ছে। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বৈঠকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রমের বিষয়ে নেতাদের নির্দেশনা ও বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে দলীয় নেতাদের নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করবে। জনগণ সরকারের উন্নয়ন দেখছে। আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হয়। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা প্রার্থী যাচাই-বাছাই করবো। ইতিমধ্যে দল তা শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গে দলের শীর্ষ কয়েক নেতা মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের বেশি সময় নেই। তাই সঠিক সময়ে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দলের মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দলের নেতারা জনগণের কাছে যাচ্ছেন। তারা আগামী নির্বাচনের জন্য নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। তারা জানান, মনোনয়ন নিয়ে এবার আওয়ামী লীগে কঠোর ভূমিকা নেয়া হচ্ছে। জনগণের আস্থা নেই এমন কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক থেকে এ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।