ফরিদপুরে নদী ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২০ নভে ২০২০ ০৮:১১

ফরিদপুরে নদী ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর
বন্যার পর এবার ফরিদপুরে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভাঙন কবলিত এলাকার হাজারও পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও কৃষি জমি। হুমকিতে মধুখালী উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ গ্রন্থাগার, স্মৃতি জাদুঘর এবং বাড়ি যাওয়ার সড়ক, সদর উপজেলার গোলডাঙ্গী সেতু, বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন রোধে কাজ করার কথা জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।
পদ্মা নদী বেষ্টিত ফরিদপুর সদর ও চরভদ্রাসন-সদরপুর উপজেলা। গেল দুই দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ি, কৃষি জমি, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
হুমকির মুখে রয়েছে আরও অনেক স্থাপনা। মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের অনেক কৃষি জমি, বসতবাড়ি মধুমতী নদীর গর্ভে চলে গেছে। বন্ধ রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফের গ্রাম রউফ গ্রামে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ রাজীব শেখ (১৮) বলেন, “রাস্তাটি গ্রাস করায় আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা অনেক সমস্যায় পড়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পৌঁছাতে আমাদের আরও তিন কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। ”
সালামতপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, “স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্য বহন করার সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক প্রতিদিনই পোহাচ্ছেন ভোগান্তি।
রউফ গ্রামের স্থানীয়ারা আরোও বলেন, মানুষের এত সমস্যা হচ্ছে যে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কোনো রোগীকে ঘরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তা-ঘাট ভাঙার কারণে স্কুল-কলেজে যেতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা হাট-বাজার করতে পারি না। কোনো মালপত্র আনতে পারছি না। আমরা রাস্তা চাই ও নদী ভাঙন বন্ধ চাই।
এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গত কয়েক দশকে দুইটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে মনচিত্র থেকে উঠে গেছে। লক্ষাদিক পরিবার হারিয়েছে বসত ভিটা।এখনও হাজারো পরিবার ভূমি হীন হয়ে জীবন যাপন করছে।
এছাড়াও দু’দশক আগে সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের প্রায় পুরোটা পদ্মার গ্রাসের স্বীকার হয়ে নিশ্বঃ হয়েছেন লাখো পরিবার। তাদের ক্ষত আজও ক্ষতই হয়ে গেছে।
নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে তীর সংরক্ষণ বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাইবো) নির্বাহী প্রকৌশলী। ফরিদপুর পাউবো এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, এরই মাঝে মধুমতী নদীর ভাঙনটির সংরক্ষণ প্রকল্প পানি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। এছাড়াও পদ্মা নদীর ডান পার জিও ব্যাগ এবং ব্লক দিয়ে বাধ নির্মানের একটি প্রকল্পর কাজ অচিরেই শুরু হবে। যা ফরিদপুর ও রাজবাড়ী দুটো জেলার জন্যই কাজ হবে।
শুধু আশ্বাস নয় অচিরেই নদী ভাঙন রোধ না হলে আরো অনেক গ্রামের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •