ফিলিপাইনে শক্তিশালী ঝড়-ভূমিধসে ৬০ জন নিহত

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণপূর্বাঞ্চল বিকোলে শক্তিশালী ঝড়ে কমপক্ষে ৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত লোক। নিহতদের সংখ্যা আর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শক্তিশালী এই ঝড়ে দেশব্যাপী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গোটা দেশে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। সরকারি সতর্কীকরণ পদ্ধতি ঝড়টিকে টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত না করায় এত সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় শনিবার ‘উসমান’ নামের এই ঝড়টির তাণ্ডবের শক্তিতে স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে বিস্মিত হন। কেননা, এত শক্তিশালী ঝড়ের কোনও পূর্বাভাস তাদের দেয়া হয়নি। আর সেজন্যই লোকজন পূর্ব সতর্ককতা অবলম্বন করতে পারেনি। বিকোলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক ক্লাউদিও ইউকোট আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে এসব কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘লোকজন ছুটির মেজাজে ছিল। কোথাও কোনও সতর্কীকরণ পূর্বাভাস দেয়া হয়নি। আর তাতেই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়টিতে এত লোক হতাহত হয়েছে।’ তিনি জানান, ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ খুব বেশি ছিল না। কিন্তু এর প্রভাবে ভারি বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভূমিধস হয়। সেইসব স্থানে মাটিচাপা পড়েও অনেকে মারা যান।
উল্লেখ্য, ফিলিপাইনে প্রায়শই ক্রান্তীয় ঝড় আঘাত হানে। গত সেপ্টেম্বরে চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন মাংখুট ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার শক্তি নিয়ে দেশটিতে আঘাত হেনেছিল। যাতে প্রায় ৬০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানি হয়। এর আগে ২০১৩ সালে সুপার টাইফুন ‘হাইয়ানে’র আঘাতে দ্বীপদেশটিতে ৭ হাজারেরও বেশি লোক মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাখ লাখ মানুষ। যে ঝড়টিকে ফিলিপাইনের রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।