ফুলপুরে চায়না তরমুজের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২০

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে পরীক্ষামূলক চায়না তরমুজ চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। ২০১৯ সনের নভেম্বরে চায়না তরমুজের বীজ বপন করা হয়। চলতি ২০২০ সনের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এগুলোতে ফলন আসতে শুরু করে। তখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ ও উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন। মার্চের শেষের দিকে তরমুজগুলো বিক্রির উপযুক্ত হয় এবং বাজারজাত করা শুরু হয়। ৩ ধরনের তরমুজ চাষ করা হয় এ প্রজেক্টে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে এসব তরমুজ। এর মধ্যে লক মেলন নামে উন্নত জাতের তরমুজগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকা কেজি দরে। আর তরমুজ ও বাঙির ক্রসে জন্মানো সাম্মাম নামে এক ধরনের বাঙি জাতীয় তরমুজের কেজি হচ্ছে ১৮০ টাকা করে। এছাড়া আমাদের দেশীয় তরমুজের মত দেখতে চায়না তরমুজ প্রতি কেজির মূল্য ১২০ টাকা। এগুলো স্বাদে, গন্ধে ও দেখতে যেন অতুলনীয়। খেতেও খুব মিষ্টি। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে নিয়ে বেড়াতে গেলে ব্যতিক্রমী এ ফল দেখে পছন্দ করবেন সবাই। দেশীয় তরমুজের চেয়ে নানা দিক থেকেই এগুলো ভাল। তাই দামও একটু বেশি।
উপজেলার সিংহেশ্বর গ্রামে হাফেজ রমজান আলীর বাড়ির সামনে ১০ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠা চায়না তরমুজের প্রজেক্টটিতে ১৬৮টি শেড রয়েছে। প্রতি শেডে ১৮০ থেকে ২০০টি করে চারা রোপন করা হয়। এসব চারায় প্রচুর ফলন এসেছে। ফুলপুর থেকে শেরপুর রোড হয়ে ৬ কিলোমিটার যেতেই চাঁনপুর মোড়। সেখান থেকে উত্তর দিকের রাস্তায় আধা কিলোমিটার পরই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর চায়না তরমুজের নজরকাড়া প্রজেক্ট। প্রতিনিয়তই দর্শনার্থীরা দেখতে যাচ্ছেন ওই তরমুজ ক্ষেত। রবিবার দুপুরে চায়না তরমুজ ক্ষেত দেখতে গিয়ে দেখা হয় ফুলপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন খানের সাথে। তারা বলেন, চায়না তরমুজের প্রশংসা শুনে দেখতে আসলাম। তরমুজ কেটে আমাদের আপ্যায়ণ করা হলো। ভালই লাগলো। পরিদর্শনে তারা মুগ্ধ হন ও কিছু তরমুজ কিনে নেন। চায়না তরমুজের প্রতি বাংলাদেশীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে আঁচ করতে পেরে, থ্রী হুইলারের ব্যবসা উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা চীনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিস্টার উ এবারই প্রথম পরীক্ষামূলক এর আবাদ শুরু করেন। সফল হলে ইনভেস্ট আরো বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রথমবার শুরু করার কারণে ও যতেœর কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে নষ্টও হয়েছে প্রচুর তরমুজ। এছাড়া পাহারাদারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরিও হয়ে যায় কিছু তরমুজ। পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় প্রজেক্টে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী চায়নিজ কৃষক মিস্টার ডিং ঝাং, লেহে কিং ও মিস্টার সান ঝাংয়ের সাথে। জমিদাতা রমজান আলী তাদের থাকার যাবতীয় সুবিধাদিসহ ঘর করে দেন। তারা জানান, প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পরীক্ষামূলক চায়না তরমুজ চাষের এই প্রজেক্টে স্থানীয় ১২ জন শ্রমিক রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হয়। আমাদের সাথে তারাও প্রচুর শ্রম দিচ্ছেন। আশা করছি এর ফল পাওয়া যাবে। চীন প্রবাসী ও দোভাষী চট্টগ্রামের হোসাইন বলেন, চায়নিজদের সাথে যৌথভাবে আমি এ প্রজেক্ট শুরু করেছি। প্রজেক্টের জন্য নেওয়া ১০ একর জমির পুরোটাই ভাড়ায় নেওয়া। ৮ শতাংশের প্রতি কাঠা জমির বাৎসরিক ভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। এদিকে, হঠাৎ করোনা ভাইরাস! এখন শেষ পর্যন্ত কী যে হয়, লাভের মুখ দেখতে পারব কিনা বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় কেয়ারটেকার হাফেজ রমজান আলী বলেন, বিক্রি করতে না পারায় প্রচুর তরমুজ পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ও লক ডাউনের কারণে কোন গাড়ি বা পাইকার ক্ষেতে ভীড়ছে না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে কপাল খারাপ আছে। তিনি আরো জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮০ টাকা কেজি দরে কিছু তরমুজ বিক্রি হয়েছিল। এরপর আর পাইকাররা আসতে পারছেন না। স্থানীয় বাজারে অল্প অল্প বিক্রি করলেও জমে থাকা প্রচুর তরমুজ পঁচে যাচ্ছে। তবে তাড়াতাড়ি লক ডাউন ছুটে গেলে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তরমুজ কিনতে আগ্রহীদেরকে তার ০১৭১৩৬০৬২৬৮ নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান রমজান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •