Mon. Apr 6th, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলার সেরা আকর্ষণ মাছ-মিষ্টি!

1 min read

 

গাবতলী (বগুড়া) ঃ
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবানে ৪’শ বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা মাছের জন্য বিখ্যাত । মাছ খেতে বা দেখতে ভালোবাসেন যারা বছরে একটি দিন বিপুল আগ্রহ নিয়ে তারা ভিড় জমান এ মেলায়। ছোট-বড় হরেক প্রজাতির মাছ মেলে এ মেলায়। পুরোপুরি মাছকে বিক্রয় কেন্দ্রিক জমে ওঠা এ মেলায় দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আরেক আকর্ষণ মাছ-মিষ্টি। ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে মাছের বিপুল সম্ভার নিয়ে শুরু হয়েছে পোড়াদহ মেলা। মাছের সন্ধানে ভোর থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আনাগোনা। মেলা এলাকার আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মিষ্টির নাম।

মাছই যেহেতু মেলার প্রধান ঐতিহ্য, সেইসব মাছের আদলেই বাহারি সব মিষ্টি তৈরি করে পসরা সাজিয়ে বসেছেন মিষ্টি দোকানীরা। এর নামও দেওয়া হয়েছে ‘মাছ-মিষ্টি’। মাছের পাশাপাশি পোড়াদহের এই মাছ-মিষ্টিও স্বনামধন্য।
সারাদেশ থেকে উৎসুকরা হাজির হ পোড়াদহের মেলায়। এ মেলা ঘিরে রীতিমত উৎসবের আমেজ তৈরি হয় আশপাশের এলাকায়। জামাইরা বেড়াতে আসে শ্বশুর বাড়ি। অনেকে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সেলামি নিয়ে পোড়াদহে যায় মাছ কিনতে। কেউবা মেলা থেকে মাছ আর মিষ্টির উপহার নিয়ে বেড়াতে যায় শ্বশুরবাড়ি। সমান তালে জমানো টাকা নিয়ে মেলায় ভিড় করেন এলাকাবাসীও । চলে ব্যাপক কেনাকাটার ধুম। আর সেই কেনাকাটার তালিকায় মাছের পরই জায়গা পোড়াদহের বিখ্যাত সব মিষ্টি। আর তার মধ্যে প্রধান থাকে মাছের আদলে বানানো মাছ-মিষ্টি।

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে মেলায় গিয়ে মাছপ্রেমী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বললে নানাচিত্র উঠে আসে। মেলায় আসা জামাই সাব্বির হোসেন ও আলাউদ্দিন মন্ডল জানান, পোড়াদহ তাঁদের শ্বশুরবাড়ির এলাকার মেলা। মেলা ঘিরেই তারা শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। এই মেলায় এ এলাকার জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যায়। তারাও বড় মাছ কিনেছেন।
আলাউদ্দিন বলেন, সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ৮ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ কিনেছি। পাশাপাশি মাছের সঙ্গে মিল রেখে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ৫ কেজি ওজনের একটি মাছ মিষ্টিও নিয়েছি। মাছ আর মিষ্টি নিয়ে এখন শ্বশুর বাড়ি যাবো।
মাছ মিষ্টির অন্যতম প্রস্ততকারি আনিপ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক ফেলু চন্দ্র মোহন্ত জানান, এ ব্যবসার সঙ্গে যোগ হওয়ার পর থেকেই বাহারি ডিজাইনের মিষ্টান্ন সামগ্রী নিয়ে তারা এ মেলায় আসেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিপুল মিষ্টান্ন সামগ্রী নিয়ে মেলায় এসেছেন তারা। বেচাকেনাও বেশ ভালো। সব রকমের মিষ্টিই বিক্রি হয়। তবে মাছ মিষ্টির ব্যাপারে ক্রেতাদের বাড়তি এক ধরনের আগ্রহ আছে বলে জানান ওই মিষ্টির দোকানী।
এমেলায় অংশ নেওয়া মিষ্টির দোকানগুলোতে দোকানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের মাছ-মিষ্টি, লাভ মিষ্টি, কদম মিষ্টি, জাম মিষ্টি, চমচম, হাসিখুশি, কালোজাম, স্পঞ্জ মিষ্টি, ছানার জিলাপি, লাড্ডু, মুড়িমুড়কি, কদমাসহ নানান মিষ্টান্ন সামগ্রী রয়েছে। এর মধ্যে বড় আকারের মিষ্টি ২’শ থেকে ৪’শ টাকা, মাঝারি আকারের মিষ্টি ১৮০ টাকা ও ছোট আকারের মিষ্টি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.