বঙ্গবন্ধুর খুনীরা কোথায়?

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৪ আগ ২০২০ ০৬:০৮

বঙ্গবন্ধুর খুনীরা কোথায়?

 

বিশেষ প্রতিনিধি: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি ৫ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলো—সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ৬ আসামি পলাতক ছিল। তাদের মধ্যে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আবদুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। পলাতক বাকি ৫ জনের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছে। বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছে।
পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইন্টারপোলের রেড নোটিস বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রেড নোটিসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় উল্লেখ থাকে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থান মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। এ সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে তাদের আত্মীয়স্বজনের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করছে সরকার। ভবিষ্যতেও ট্র্যাকিং অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুনিরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার ডিআইজির নেতৃত্বে একটি দল কাজও করছে। সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পলাতক নূর চৌধুরী কানাডায় আবেদন জানান। তবে তা খারিজ হয়ে যায়। এর পরও তাকে ফেরত আনার ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। কানাডার রাজধানী টরন্টোর ১৩ কিলোমিটার উপকণ্ঠ ইটোবিকোকে তিনি এখন অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, নূর চৌধুরী ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৯৭৬ সালে তিনি ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরে আলজেরিয়া ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং হংকংয়ের কনস্যুলেটে বদলি হন। ১৯৯৪ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ছিলেন। ৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। সূত্র জানায়, খুনি রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেক্রামেন্টো থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর কনকর্ডে অবস্থান করছেন। তিনি ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। রাশেদ চৌধুরী ১৯৭৬ সালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তিনি কেনিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করেন। ৯৬ সালের জুলাইয়ে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাকে ওই বছরের জুলাইয়ে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো চলে যান।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ