বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সংষ্কার প্রয়োজন

প্রকাশিত: ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সংষ্কার প্রয়োজন

মোঃ সানজাদ রয়েল সাগর, বদলগাছী (নওগাঁ):
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক প্রতœততœ নির্দশন পাহাড়পুর বৌদ্ধহিারের মূল মন্দিরের চূঁড়াই ওঠার কাঠের সিঁড়ির নষ্ট হয়েছে। মন্দিরে প্রবেশের কাঠের তৈরী পদচারী সেতুর পাটাতনের কিছু অংশও খুলে পড়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দশনার্থীরা মূল মন্দিরে ভেতরে প্রবেশ ও মন্দিরের চূঁড়াই উঠতে বিভিন্ন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে দুই ধাপে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ করা হয়। এম/এস ঢালি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজটি করেছিল। মন্দিরের দেয়ালের পুরানো আঙ্গিকে পোড়া মাটির টেরাকোটা লাগানো হয়েছিল। মূল মন্দিরের প্রবেশের জন্য কাঠের পদচারী সেতু ও মন্দিরের চূঁড়াই ওঠার জন্য কাঠের সিঁড়ি নির্মাণ করা হয় । সংস্কার ও উন্নয়নে তিন বছরের মাথায় মন্দিরের দেয়ালগুলোর পোড়া মাটির টেরাকোটা খসে পড়ছে। মন্দিরে যাওয়ার কাঠের পদচারী সেতুটির পাটাতন নষ্ট হয়েছে। মূল মন্দিরের উঠার কাঠের সিঁড়িটি নষ্ট হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে বাঁশের চেকার দিয়ে সিঁড়ির মুখটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রধান সিঁড়িপথ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উপরে উঠা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করে কাঠের সিঁড়ির একপাশে একটি সাইনর্বোড লাগানো হয়েছে। এসব সমস্যার কথা জানিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টেডিয়ান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে কয়েক জন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁঠের সিঁড়ি বন্ধ থাকায় মদিরের চূঁড়ায় উঠতে তাঁদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। কাঁঠের সিঁড়ি বন্ধ থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে দুই পাশ দিয়ে ইট বয়ে মন্দিরের চূঁড়ায় উঠছেন। আবার অনেকেই মন্দিরের চার পাশ ঘুরে দেখে চলে যাচ্ছেন। রাজশাহী বহরমপুর থেকে আসা বাপ্পি বলেন, ১০ বছর আগে এখানে একবার পাহাড়পুর ভ্রমনে এসেছিলাম। তখনকার চেয়ে এখন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মন্দিরের চূড়াই ওঠার কাঁঠের সিঁড়িটি নষ্ট রয়েছে। একারণে অনেক কষ্ট করে মন্দিরের চূড়ায় উঠতে হয়েছে। কাঁঠের সিঁড়িটি দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মূল মন্দিরে প্রবেশের কাঠের পদচারী সেতুর পাটাতন কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে। মন্দিরের চূঁড়াই ওঠার কাঠের সিঁড়িটি নষ্ট হয়েছে। মহাপরিচালক মহোদয়কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। চিঠির প্রেক্ষিতে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এসেছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •