বদলগাছী অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পে লোক না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ব্যারাক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৫ নভে ২০২০ ০৪:১১

বদলগাছী অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পে লোক না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ব্যারাক

বদলগাছী (নওগাঁ) :
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব বনগ্রাম এর হাস্তা বিলে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা আবাসন প্রকল্পে পূনর্বাসিত ২৭০ টি পরিবারের মধ্যে ২০০টি ঘরই ফাঁকা রয়েছে। আবাসন প্রকল্প দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত হলেও পূনর্বাসিত গ্রামে ফিরে যাওয়া পরিবারগুলো আর আবাসনে ফিরে আসেননি। আর টিনের ব্যারাকগুলি জং-মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে পরলেও সংস্কারের জন্য নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।
জানা যায়, পূর্ব বনগ্রাম আবাসন প্রকল্পে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিহীনদের তালিকা প্রনয়ন করে ২৭০ টি পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে ঘর বরাদ্দ করে ২০১২ সালে ২৭০টি পরিবারকে এই আবাসনে পূনর্বাসন করা হয়। পূনর্বাসিত পরিবাররা প্রথম দিকে আনন্দের সংগে ওই ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করলেও ৩/৪ মাসের মধ্যে পুরো ব্যারাক যেন ফাঁকা হয়ে যায়। তারা তাঁদের বরাদ্ধকৃত আবাসন ঘরে তালা ঝুলিয়ে গ্রামের বাড়ী চলে যায়। বর্তমানে ওই আবাসন প্রকল্পে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার বসবাস করছে যা শুরু থেকেই আছে।
আবাসন প্রকল্পে বসবাসকৃত লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, আবাসানে পূর্নবাসিত করার আগে সরকারী নানা সুযোগ সুবিধার কথা বলা হয়েছিল আবাসনে বসবাসকৃত লোকজনদের। এ পর্যন্ত তারা আবাসনে বসবাস করে কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি। এই আবাসনে ২টি পুকুর রয়েছে তা অবৈধ ভাবে ইউএনও অফিস থেকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০১৮ ইং সালে পুকুর দুটি পূনর্বাসিতদের দখলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান নাথাকায় লোকজন থাকতে পারেনা এ আবাসন প্রকল্পে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে বিল বা জলাশয়ে আবাসন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু জলাশয়ে বসবাস যোগ্য নয় জন্যই তৎকালীন ইউএনওর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সাবেক জেলা প্রশাসক মোছাঃ নাজমানারা খানম এর স্বাক্ষর জনিত চিঠির মাধ্যমে পূর্ববনগ্রাম হাস্তা বিল সহ উপজেলার কিসমত পাঁচ ঘড়িয়া বিল, মাহমুদ বিলা ও ঐতিহ্যবাহী নহেলাকাষ্টগারী বিল সম্পূর্ন রূপে বিলের শ্রেণী পরিবর্তন করে ভিটা জমিতে রূপান্তর করা হয় বলে উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায় । উপজেলার পূর্ব বনগ্রাম হাস্তাবিল একটি ঐতিহ্যবাহী জলাশয় যা ভিটা মাটিতে রূপান্তর করা হয়েছে।
আবাসন পরিবারের দুলাল হোসেন, নূর ইসলাম, ওয়াজদুল, কুদ্দুস, লিলিফা, লুৎফা বেগম, ফেরেজা বেগম, শাহিদা জানান, ধুধু মাঠের মধ্যে এই আবাসন প্রকল্প কোন কর্মসংস্থান নেই এখানে । আশে পাশে কোন গ্রামও নেই যে মানুষের বাড়িতে কাজ করবে তারা। পুকুর গুলি বর্তমানে অবৈধ দখল মুক্ত হয়েছে। এছাড়াও আবাসনে বসবাসকারীরা জানালেন আরো নানা সমস্যার কথা।
আব্দুল জব্বার জনায়, এখানে ভাল যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। যে রাস্তা রয়েছে ভ্যান রিক্সা চলাতো দুরের কথা হেটে চলাচলেরও উপযোগী নয়। আবার একটু রাত হলে চলাচল হয় বিপদজনক। বৃষ্টি হলেই এ পথে আর চলাচল করা যায় না এবং ব্যারাকের ভিতরে চলাচলের যে পথ তা ইট সোলিং না করে দিলে এখানে বসবাস করা খুব কষ্টকর। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পরে। আবাসনের ঘরগুলিও এখন নষ্ট হতে শুরু করেছে। এখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের লেখাপড়া করার জন্য নেই কোন বিদ্যালয়, ছেলে মেয়েরা কোথায় গিয়ে পড়াশুনা করবে। এখানে নামাজ পড়ার জন্য ছিলনা কোন মসজিদ। কিন্তু ১ বছর আগে এখানে বসবাসকারীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে একটি টিনের মসজিদ তৈরি করা হয়। সেই মসজিদের টিন গুলো খুবই খারাপ। আগে কোন বিদুৎ সংযোগ ছিলোনা এখানে। দেড় বছর আগে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এখানে। রোদ হলে প্রচন্ড গরম। টিনের ঘরে দিনের বেলায় গরমে থাকা যায় না। তার পরেও খেয়ে না খেয়ে নানা ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার এখানে বসবাস করছে। রাতে ঘরের জানালা খুলে রাখা যায় না। অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ও নেশাখোরেরা এসে জানালায় ধাক্কাধাক্কি করে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে তারা অনেক উপকৃত হবে বলে জানান।
আব্দুল জব্বার আরো জানান, এই আবাসনে বসবাসরত যাদের গ্রামে বাড়ী ঘর রয়েছে তারা আবাসনের ঘরে এক রাত বসবাস করেই তালা চাবি ঝুলিয়ে দিয়ে চলেগেছে। কিছুকিছু পরিবার আরও ২/১ দিন বেশি থেকেছে। এখন অধিকাংশ ব্যারাক ফাঁকা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানে বসবাসরত লোকজনদের কোন কর্মসংস্থান নেই। তারা সরকারীভাবে কোন পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পায় না। এই আবাসনে মোট ৫৪ টি ব্যারাক রয়েছে। প্রতি ব্যারাকে ৫টি করে পরিবার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ ব্যারাক দিনের পর দিন ফাঁকা থাকায় জাং-মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এই জং মরিচা ধরা ব্যারাক গুলি সংস্কারেরও কোন ব্যবস্থা করা হয়নি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমি এখানে আসার অনেক পূর্বে এই আবাসন প্রকল্প নির্মিত হয়েছে। সেখানে স্কুল নির্মাণের কোন নীতিমালায় আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে আমি এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলবো। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টি আমি গুরুত সহকারে দেখবো ।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •