Sat. Jan 25th, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

বদলি হজের গুরুত্ব ও বিধিবিধান

1 min read

হজরত আলী (রা.) এর সূত্রে নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এতটুকু সম্পদ ও সামর্থ্যরে মালিক হয় যা দ্বারা সে বাইতুল্লায় হজের জন্য যেতে পারে, কিন্তু তারপরও সে হজ করেনি তাহলে সে ইহুদী হয়ে মারা যাক বা খৃস্টান হয়ে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

 

এরপর রাসূল (সা.) এই আয়াত তেলাওয়াত করেন, ‘লোকদের মধ্য থেকে যারা বাইতুল্লায় যেতে সক্ষম তাদের ওপর হজ ফরজ।’ (সুনানে তিরমিজী)।

 

 

উলামায়ে কেরাম এই হাদিসের ব্যাখ্যায় নানা মত প্রকাশ করেছেন যে, রাসূল (সা.) উম্মতের প্রতি এত দরদী হওয়া সত্তেও কেন তিনি হজ ত্যাগকারীকে ইহুদী নাসারা হয়ে মৃত্যুর কথা বললেন। এ ব্যাপারে আল্লামা ইউসুফ বিন নূরী (রহ.) এর ব্যাখ্যাটি খুবই চমৎকার। তাই তার মতটিকে তুলে ধরা হলো।

 

জেনে রাখা ভালো যে, হজের কার্যক্রমগুলো হচ্ছে হজরত ইব্রাহিম ও তার ছেলে ইসমাঈল (আ.)-কে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা হজকে দ্বীনে ইব্রাহিমীর অনেক বড় প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর ইহুদী-নাসারারা দ্বীনের এই প্রতীকের খুবই বিরোধিতা করে (কারণ, হজের কার্যক্রম হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে কেন্দ্র করে, যাকে ওরা নিজেদের বংশের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে)। তো মুসলমানের পরিচয় যেমন নামাজ পড়া না পড়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় তেমনি হজের মাধ্যমেও পাওয়া যায়।

 

মুসলমান ও মুশরিক সম্প্রদায়ের মাঝে যেমন পার্থক্য হচ্ছে নামাজ। তেমনি ইহুদী-নাসারা ও মুসলমানের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে হজ। অতএব, যে নাকি সামর্থ্য থাকা সত্বেও হজ করবে না বাহ্যিকভাবে তার মাঝে ও ইহুদিদের মাঝে কোনো পার্থক্য রইলো না। তাই নবী করিম (সা.) এই কথা বলেছেন। (মাআরেফুস সুনান, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৫) এর দ্বারা মূলত হজের বিধান কতটুকু গুরুত্বের দাবী রাখে তা বুঝা যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে, যখনই হজ ফরজ হবে তাৎক্ষণিক তা আদায় করে ফেলা। কিন্তু কোনো কারণে যদি বিলম্ব হয়েই যায় যে, তার পক্ষে হজ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে করণীয় হচ্ছে, বদলি হজের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাওয়া। যদি ওসিয়ত নাও করে যায় তারপরও আত্মীয়-স্বজনরা তার পক্ষ থেকে আদায় করে তাহলে তা উত্তম কাজ বলে বিবেচিত হবে ইনশাআল্লাহ! বদলি হজের ব্যাপারে হাদিসও বর্ণিত হয়েছে।

 

অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করা:

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) ফজল ইবনে আব্বাসের সূত্রে নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা নবী করীম (সা.) এর নিকট এসে বলেন, আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ মানুষ। তিনি বাহনের ওপর বসে থাকতে সক্ষম নন। তখন রাসূল (সা.) ওই মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ কর। (তিরমিজী)।

 

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ করা:

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা স্বীয় পিতা বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক মহিলা রাসূল (সা.) এর নিকট এসে বলেন, আমার মা মারা গেছেন, কিন্তু তিনি হজ আদায় করে যেতে পারেননি, আমি কী তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করবো? রাসূল (সা.) বলেন হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে তুমি হজ আদায় কর। (তিরমিজী)। ইমাম তিরমিজী (রাহ.) এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ বলেছেন, যা অনুযায়ী আমল করতে কোনো সমস্যা নেই। উভয় হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে কনো সমস্যা নেই। ইনশাআল্লাহ! এর দ্বারা মৃত ব্যক্তি হজের জিম্মাদারি থেকে মুক্তি পাবে।

 

বদলি হজের বিধিবিধান-

 

বদলি হজকারী হজে তামাত্তুর ইহরাম বাঁধা:

আমরা বিভিন্ন আলোচনায় শুনেছি হজ তিন প্রকার। বদলি হজ আদায়কারী ব্যক্তি হজে কিরান বা হজে ইফরাদের নিয়ত করবে। হজে তামাত্তুর নিয়ত করবে না। তবে যার হজ আদায় করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে যদি তামাত্তু হজ আদায়ের অনুমতি থাকে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে এক্ষেত্রে কোরবানি হজ আদায়কারীর পক্ষ থেকে দিতে হবে। আর যদি মূল ব্যক্তি অনুমতি না দেয় আর বদলি হজকারী তা সত্তেও তামাততু আদায় করে তাহলে হজই আদায় হবে না। সে ক্ষেত্রে হজ আদায়কারীর দায়িত্ব হবে সমস্ত খরচ মূল ব্যক্তিকে ফেরত দেয়া। এ জন্য উলামায়ে কেরামের পরামর্শ হচ্ছে, সব প্রকার হজ আদায়ের অনুমতি দিয়ে দেয়া। (ফতোয়ায়ে উসমানি, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-২২২)। কোনো কোনো আলেমের মতে বদলি হজের ক্ষেত্রে তামাততু আদায় করা হলে হজই আদায় হবে না। তবে প্রথম মতটিকেই উলামায়ে কেরাম সহীহ বলেছেন।

 

যে নিজে হজ করেনি তার দ্বারা বদলি হজ করানো:

যে ব্যক্তি নিজের হজ আদায় করেনি তার দ্বারা বদলি হজ করালে হানাফি মাজহাব মতে আদায় হয়ে যাবে। তবে যে বদলি হজ করছে তার ওপরও যদি হজ ফরজ থাকে তাহলে তার জন্য অন্যের বদলি হজ করা মাকরূহে তাহরিমী ও যে আদায় করাচ্ছে তার জন্য এমন ব্যক্তি দ্বারা বদলি হজ করানো মাকরূহে তানযিহী। আর যদি ওই ব্যক্তির ওপর ফরজ না হয়ে থাকে তাহলে উভয়ের জন্য মাকরূহে তানযিহী। তাই উত্তম হচ্ছে, বদলি হজের জন্য এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করা যে নিজের ফরজ হজ আদায় করেছে। (ফতোয়ায়ে উসমানি, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-২১৬ ও কিতাবুল ফ

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.