বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে টাকা-মোবাইল সহ প্রতারক চক্রের সদস্য আটক

 

মোঃআরিফ সুমন,বরিশাল ব্যুরোঃ

বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জেলা পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উজিরপুর সার্কেল সাহাবুদ্দিন কবিরের দিক নির্দেশনায় বরিশাল জেলা ডিবির এসআই তুষার কুমার মন্ডল এর নেতৃত্বে একটি বিষেশ টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিকাশ কতৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য নিয়ে উক্ত প্রত্যারক চক্রকে সনাক্ত করে গাজীপুর জেলার কাশীমপুরে অভিযান চালিয়ে ১৪ জানুয়ারী প্রত্যারক চক্রের অন্যতম সদস্য শহীদুল ইসলাম (সাইদুল) (২৮)কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় আসামীর কাছ থেকে নগদ ৮৩ হাজার টাকা, প্রত্যারনার কাজে ব্যবহৃদ ২টি মোবাইল সেটসহ বেশ কিছু সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত অপর সহযোগীরা ঘটনা টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারের লক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।সোমবার সকাল ১১টায় পুলিশ লাইন ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান এ তথ্য প্রকাশ করে।
সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন প্রত্যারক চক্র বিশেষ সফটয়ার ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ন সরকারী দপ্তরের মোবাইল নম্বর কপি করে উক্ত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ফোন করে বিভিন্ন অজুহাত ও কারণ দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে প্রত্যারনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে।
চক্রটি বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, যশোর, ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বহু কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রত্যারনা করে আসছে।

গত ১লা জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারী পর্যন্ত বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ বাবুগঞ্জ, উজিরপুর , বানারীপাড়া, আগৈলঝাড়া, ও হিজলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর প্রত্যারনা মুলক কপি করে জনপ্রতিনিধির কাছে একজন সচীবের নাম জড়িয়ে ব্যাপক অংকের টাকা দাবী করে। একই ভাবে হিজলাা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার ফোন নম্বর ব্যবহার করে ১০ জানুয়ারী হিজলা- গৌরনদী ইউ পি চেয়ারম্যান,হিজলা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম মিলনের কাছে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা প্রত্যারনা করে নিয়ে যায়। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করে প্রত্যারনার শিকার হয়েছেন বিষয়টি নিশ্চিত হন। এব্যাপারে অজ্ঞাতনামা প্রত্যারক চক্রের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারী ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৩। আটককৃত আসামীর পিতা মৃত মায়েদ ফকির সাং পলাশী, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি থানার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরো বলেন কোন সময়ই সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম ব্যবহার করে মোবাইলে প্রত্যারনার শিকার না হওয়ার জন্য ও বিকাশের মাধ্যমে কোন টাকা দাবী করা হলে বিষয়টি তদন্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোন জনসাধারনই জেন কারো সাথে টাকার লেনদের না করার জন্য আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল¬া আজাদ রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল বাশার, উজিরপুর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল আহসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *