বর্ষায় ত্বকের যত্ন

সূর্যের তীব্রতা কম থাকায় যদি মনে করেন ত্বকের যত্ন কম করলেও হবে। সেটা কিন্তু ঠিক না। বরং বর্ষা মৌসুমে ক্ষারহীন পরিষ্কারক, এক্সফলিয়েটর ও টোনার নিয়মিত ব্যবহার করা দরকার।

 

ভারতের ‘পাম’য়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং চর্ম প্রসাধনী বিশেষজ্ঞ ও কসমোডার্মা স্কিন অ্যান্ড হেয়ার ক্লিনিক’য়ের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রা ভি আনন্দ এবং ‘ক্রোনোকার’য়ের পরিচালক সিরিল ফিউলিবয়েস বর্ষায় ত্বক ভালো রাখার বেশ কয়েকটি পন্থার কথা জানিয়েছেন।

 

* সাবান ছাড়া পরিষ্কারক দিয়ে মুখ ধোয়া দিনে দুতিন বারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন। এটা ত্বকের প্রয়োজনীয় তেল বজায় রেখেই ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

* ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এক্সফলিয়েট করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মিহি দানার এক্সফলিয়েটর বা মৃদু রাসায়নিক পিল ব্যবহার করে ত্বককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়।

 

* সবসময় হালকা মেইকআপ করুন। খুবই ভালো হয় যদি ভেষজ উপাদানে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। লোমকূপকে শ্বাস নিতে দিন। ঠোঁটের আর্দ্রতা রক্ষা করতে লিপ বাম ব্যবহার করুন। আর সবসময় হাতের কাছেই রাখুন।

 

* গরমে টোনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না, ঘামের কারণে লোমকূপ বড় হয়ে যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কারের পরে টোনার লাগান, এটা লোমকূপ সংকুচিত রাখতে সাহায্য করে। অ্যালকোহল ছাড়া ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি এবং গ্লাইকোলিক অ্যাসিড উপাদান এরকম টোনার ব্যবহার করুন। এটা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বক টানটান রাখে, দাগ ছোপ দূর করে এবং ব্রণ দূর করে।

 

* রোদের কুপ্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে উন্নত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনোভাবেই এসপিএফ ৩০ এর কম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে না। বাইরে যাওয়ার আগে মুখে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

 

* সাঁতার কাটার অভ্যাস থাকলে, ভালো ভাবে পানি মুছে আবার সানস্ক্রিন লাগান। ভালো প্রতিরক্ষার জন্য দুতিন ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

 

* আর্দ্রতা ধরে রাখতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। আর্দ্রতার কারণে হওয়া ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সপ্তাহে একবার মূলতানি মাটির মাস্ক ব্যবহার করুন যা প্রাকৃতিকভাবে তেল শোষণ করে। মৃতকোষ দূর করতে ও লোমকূপের ময়লা দূর করতে টি ট্রি বা গ্রিন টি সমৃদ্ধ মাস্ক ব্যবহার করুন।

 

* শীতকালের মতো গরম কালেও ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। রোদ ও দূষণের কারণে ত্বক প্রাকৃতিক তেল হারায় এবং অল্প বয়সেই ‘বয়স্ক’ ভাব পড়ে। হালকা, চিটচিটে না এবং এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ এমন ‘ডে ক্রিম’ ব্যবহার করুন। প্রাকৃতিক উপাদান যেমন- আঙুরের বীজ ও সি বাকথ্রন ফলের তৈরি ক্রিম ব্যবহার করুন। এটা ত্বক সুগঠিত করতে ও পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে।

 

* সংবেদনশীল অংশের প্রতি বাড়তি যত্ন নিন। ঠোঁট, চোখের চারপাশের চামড়া মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা। তাই এর বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। চোখের পানির ঝাপটা ও ঠোঁটে লিপ বাম ব্যবহার করুন।

 

* যদি নিয়মিত কাজল ব্যবহার করেন তাহলে অপথ্যামোলোলজিকেল স্বীকৃত, পানি নিরোধোক, প্যারাবেন বিহীন, খনিজ তেল বা প্যারাফিন সমৃদ্ধ কাজল ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই সব মেইক আপ তুলে মুখে তুলার বলের সাহায্যে গোলাপ জল লাগিয়ে ঘুমাতে যান।

 

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি খেতে পারেন। এটা সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

 

* অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করুন।

 

* সাধারণ প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি, নিয়মিত সানস্ক্রিন, ক্ষতিকারক নয় এমন রাসায়নিক পিল বা এক্সফলিয়েন্টস ব্যবহার করুন। যা ত্বক সুন্দর ও কোমল রাখতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.