বাংলাদেশিদের সমর্থন পাচ্ছেন ওকাসিও

আমেরিকায় হেমন্তের বাতাসে এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের উত্তাপ। তবে বাংলাদেশের মতো এ নিয়ে কোথাও কোনো বাড়তি প্রচারণা নেই। যারা নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহী, তারাই শুধু যোগ দেন নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানে। তবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমেরিকার বিশেষ করে নিউইয়র্ক নগরের মানুষের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনতার অন্যতম কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি এখানকার অভিবাসীদের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলেছে। যে কারণে নিউইয়র্ক নগরে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটা নিশ্চিত বলেই অনেকে মনে করেন।

৬ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারিয়ে বৈতরণি পার হবেন, সেটা আগে থেকে নিশ্চিত বলা যায়। তবে এবার মানুষের নজর বেশি থাকবে ডেমোক্র্যাট ফর কংগ্রেস নিউইয়র্ক-১৪ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও করটেজের দিকে। বিশেষ করে বাঙালি কমিউনিটিতে তাঁকে নিয়ে বেশি আলোচনা। দলের প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি, কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ ক্রাউলিকে হারিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। জাতীয় পর্যায়ে এখন তিনি ডেমোক্র্যাটদের তারকা। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট ফর কংগ্রেস জেসিকা রামোস ও ডেমোক্র্যাট ফর অ্যাসেম্বলি কাতালিনা ক্রুজকে ঘিরেও রয়েছে সবার ব্যাপক উৎসাহ। নির্বাচনে বাঙালিদের যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রিয় মুখ গ্রেস মেংয়ের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় প্রতি চার বছর অন্তর। এর বাইরে প্রতি দুই বছর অন্তর মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচনেও মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়ে থাকে। যেমন আমেরিকার ৩৬ স্টেটের গভর্নর পদে নির্বাচন হয়। আমেরিকার হাউস অব কংগ্রেসের সদস্য হলেন ৪৩৫ জন। অনেক রিপাবলিকান সদস্য অবসরে যাওয়ায় সেখানে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন ডেমোক্র্যাট পার্টির সামনে সুযোগ এসেছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের। বর্তমানে হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের দখলে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যালঘু। যে কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কংগ্রেসে পাশ করিয়ে নিতে পারছেন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত নির্বাচনী জরিপ সংস্থা পলিটিকোর জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এবার হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

নিউইয়র্ক নগর ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় শহরে অভিবাসীদের বসবাস বেশি। এসব রাজ্যে বরাবরই ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার। নিউইয়র্ক নগরের পাঁচ বরোর মধ্যে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া সর্বত্রই বাঙালিদের আধিপত্য। এমনকি লং আইল্যান্ডেও। আধিপত্য ডেমোক্র্যাটদেরও। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে তুলনামূলক বাঙালি কম বসবাস করে। কিন্তু ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কস যেখানে বাঙালিরা বেশি বাস করে, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা অনেক আগে থেকে ভালো অবস্থায় আছে।
চলতি বছর নিউইয়র্ক নগরের ডিস্ট্রিক্ট ফোরটিনের নির্বাচনে জোসেফ ক্রাউলির হার ছিল বিরাট বিস্ময়। ২৮ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও সবাইকে চমকে দিয়ে এই এলাকা থেকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। আলেকজান্দ্রিয়া পার্কচেস্টার, জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্টের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এই তিন এলাকায় সিংহভাগ ভোটার ল্যাটিনো ও হিসপানিক। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের হয়ে কাজ করেছেন আলেকজান্দ্রিয়া। তিনি এই এলাকার প্রত্যেক ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মিশেছেন। যেটা করেননি বলেই জোসেফ ক্রাউলির মতো আইরিশ বংশোদ্ভূত অভিজ্ঞ কংগ্রেসম্যান হেরে গেলেন কম বয়সী প্রার্থীর কাছে। তবে মূলধারার রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা বাঙালি প্রতিনিধি মাজেদাউদ্দীন বলেছেন, জোসেফ ক্রাউলি রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তিনি ওয়ার্কিং ফ্যামিলি পার্টির হয়ে অংশ নেবেন আসন্ন নির্বাচনে। উল্লেখ্য, মাজেদাউদ্দীন আলেকজান্দ্রিয়ার ‘বাঙালি মা’ হিসেবে পরিচিত।
স্টেট সিনেটর প্রার্থী জেসিকা রামোস ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে হারিয়েছেন হোসে পেরাল্টাকে। দুজনেই ল্যাটিন বংশোদ্ভূত। বাঙালি কমিউনিটিতে জেসিকা একজন প্রিয় মুখ। অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক কাতালিনা ক্রুজও খুব জনপ্রিয়। জেসিকা ও কাতালিনা দুজনেই নিয়মিত জ্যাকসন হাইটস কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। জ্যামাইকা ও বে সাইডে বসবাসকারী বাঙালিরা সমর্থন দিচ্ছেন চাইনিজ বংশোদ্ভূত জন লু’ কে, যিনি টনি অ্যাভেলাকে হারিয়েছেন।
১ নভেম্বর ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় ডেমোক্র্যাটপ্রার্থীদের নিয়ে ‘বিল্ডিং আওয়ার মুভমেন্ট’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মাজেদা আক্তার উদ্দীন, যেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানান নির্বাচিত সদস্যদের। এই তালিকায় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নমিনি ফর অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস, ডেমোক্র্যাট ফর কংগ্রেস নিউইয়র্ক-১৪ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও করটেজ, ম্যাক্স রোজ, টম সিউজি, লিউবা গ্রেসেন শার্লে, পেরি গার্সন ও জেসিকা রামোস (ডেমোক্র্যাট ফর কংগ্রেস); জন লিউ, আলেসান্দ্রা বিয়াগি, জুলিয়া সালেজার ও অ্যান্ড্রু গাউন্ডেস (ডেমোক্র্যাট ফর সিনেট); চার্লস ফলস, কাতালিনা ক্রুজ, কারিনেস রেয়েস ও ড. ম্যাথিলডে ফ্রন্টাস (ডেমোক্র্যাট ফর অ্যাসেম্বলি)।