বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

প্রকাশিত:বুধবার, ২৫ সেপ্টে ২০১৯ ০১:০৯

বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে সব স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

 

সম্প্রতি বিডার নবনিযুক্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীরের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সাক্ষাৎ করলে এসব কথা বলেন তিনি।

 

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের দিকে খেয়াল রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নের গতিবেগ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখীকরণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিমণ্ডল বিবেচনায় বিদ্যমান কোম্পানি আইনের সংস্কার এবং তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়সমূহ এতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

 

ডিসিসিআইর সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে এটি ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

 

তিনি জানান, ২০১৮ সালে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটি ২০১৭ সালে ছিল ২ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো একান্ত আবশ্যক।

 

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য বাণিজ্যবিষয়ক সব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। বিডার প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিসের একটি শাখা ঢাকা চেম্বারে স্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।

 

ডিসিসিআই সভাপতি প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) দ্রুততম সময়ে গ্যাস, বিদ্যু, পানিসহ অন্যান্য সেবার সংযোগ দেয়ার পাশাপাশি বেজা, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিডার সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন।

 

ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ৮ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দীর্ঘময়োদী অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট চালু ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, মো. রাশেদুল করিম মুন্না ও নূহের লতিফ খান অংশ নেন।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ডিসিসিআইর পরিচালক আন্দালিব হাসান, শামস মাহমুদ, এস এম জিল্লুর রহমান, বিডার নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডলসহ বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •