বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘ন্যূনতম গণতান্ত্রিক মানদণ্ড’ অনুসরণ দেখতে চায় জার্মানি

বাংলাদেশ সফর শেষ করেছেন জার্মান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়েলস অ্যানেন। তিন দিনের সফরে  সরকার প্রধান থেকে শুরু করে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত বিদেশি ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশের উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক সহায়তা, মানবাধিকার ও শ্রম পরিস্থিতি এবং সম-সাময়িক কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে। জার্মান সরকারের ভাষ্য মতে, প্রতিমন্ত্রী অ্যানেনের ঢাকা সফরে ‘রাজনৈতিক আলোচনা’ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে। সেই আলোচনায় পররাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বিষয়াদিও ছিল। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ন্যূনতম গণতান্ত্রিক মানদণ্ড’ অনুসরণ করা দরকার বলে মন্তব্য করা হয়েছে জার্মান প্রতিমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত দেশটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়েলস অ্যানেনের সদ্য সমাপ্ত (১৮-২০শে জুলাই) বাংলাদেশ সফরের সূচনাতে প্রচারিত  বিজ্ঞপ্তিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়- রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ যা করেছে তাতে জার্মানির সম্মান দেখানো বাংলাদেশের অনেকটা প্রাপ্য। এ সংকট মোকাবিলায় জার্মানি কিভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রী অ্যানেন ঢাকা সফর করছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় কেবল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশি গার্মেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং ক্রেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। যেখানে তিনি গার্মেন্ট শিল্পের টেকসই এবং মানবিক কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানে তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে শোনার চেষ্টা করেন অ্যানেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- বাংলাদেশকে সহায়তায় জার্মানি এখানে অনেক মানবিক সহায়তা এবং স্থিতিশীলকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রীর সফরে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়- এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির সবচেয়ে বড় বিজনেস প্রজেক্ট। কয়েক বছর ধরে জার্মানি বাংলাদেশের তৈরিপোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- তার দেশ বাংলাদেশের তৈরিপোশাক খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখও শ্রমিক, যাদের বেশিরভাগই নারী- তাদের শ্রম অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য মানবিক মান বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে।

 

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে জার্মানি: এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে জার্মান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক বিষয়ে গতকাল সেগুনবাগিচার তরফে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। সেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছে জার্মানি। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, জার্মানির জুনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিলস অ্যানন এ আশ্বাস দেন। তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা জার্মানমন্ত্রী আরো আশ্বাস দেন যে, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ব্যবস্থাপনার জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করে যাবেন। গত বৃহস্পতিবার জার্মান এই মন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে তারা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি অঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন। এসময় জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতাবোধের পরিচয় দেয়ার জন্য জার্মানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশংসা করেন।

 

বিএনপির ৩ জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বৈঠক: ওদিকে বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে জার্মান প্রতিমন্ত্রী অ্যানেন বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন। সেখানে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.