বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র : বার্নিকাট

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য বিরোধীদলের অংশগ্রহণ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক বলে বিশ্বাস করি। সব দলের অংশ গ্রহণে, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার প্রত্যাশা। দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল আন্তরিক হবেন বলে আশাকরি। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হোক, এটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২২ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সুভাশিষ বসু ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হকসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মার্শিয়া বার্নিকাট বলেন, সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই যুক্তরাষ্ট্র। সব দল নির্বাচনে না আসলে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এজন্য ভোটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, মানুষের প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল দেশ। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে আনাটাও জরুরি। কারণ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে সেটা অংশগ্রহণমূলক হয় না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিকারক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে। এ শিল্পের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও শ্রম অধিকারে অনেক উন্নতি হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স, তিন রাষ্ট্রদূত ও ৫ সচিবের কমিটি তৈরি পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করতে অনেক অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ এ খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে সফল বাণিজ্য করছে, দিন দিন এ বাণিজ্য বাড়ছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আছে, আগামীতে আরও বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বিগত ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করে, নির্বাচন প্রতিহত করার নামে প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশব্যাপী মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এটি তাদের সঠিক পথ ছিল না, এখন তা বুঝতে পেরেছে। সে নির্বাচনে অংশ না নেয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বিএনপি আবারও সে ভুল করবে বলে আমার মনে হয় না। দেশের সংবিধান মোতাবেক আগামী জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে। এ সময় সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। এ নির্বাচনে দেশের সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কোন দলকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই না।

তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়েই নির্বাচনে যেতে চায় না আওয়ামী লীগ। তবে কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না সেটা সেই রাজনৈতিক দলের ব্যাপার। আর কোন দল যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা বলা যাবে না। নির্বাচনে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ না থাকায়, সংবিধানের ভেতরে থেকেই অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়টিই রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ড. কামাল হোসেনের সক্ষমতা সম্পর্কে দেশবাসী জানেন। বিএনপি খুনিদের দল হিসেবে প্রমাণিত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তা প্রমাণ হয়েছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ড. কামাল হোসেন সফল হতে পারবেন না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশবাসী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে ঘৃণা করেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক ও ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। শিবিরের কর্মীসমাবেশে তাদের কার্যকলাপের প্রশংসা করে বক্তৃতা করেছেন। একজন নারী সাংবাদিককে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সাংবাদিক সমাজ তাকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫৫ জন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন।