বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে ।আবু জাফর মাহমুদ

বাংলাদেশে সরকারে থাকা নেতা ও কর্মকর্তারা লুটের ভাগাভাগি নিয়ে ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতায় সময় পার করছেন।সরকার বিরোধী বা ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতি এদেশে অনুপস্থিত।বিদেশে সম্পদের পাহাড়  উঁচু হয়েছে সরকারী কর্মকর্তা ও সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীদের।

 

সৎ ও সিনিয়র অনেক  সরকারী কর্মকর্তা অবসর নিয়ে বিদেশে চলে যেতে চাইলেও পারছেনা।প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা সপরিবারে লন্ডন গেছেন অনির্দ্দিষ্ট সময়ের জন্যে।

 

৭০-৭১এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান ছাত্রনেতা ও দেশের প্রথম বিরোধী দলের নেতা আ.স.ম রবের বাসায় রাজনীতিবিদরা চা নাস্তা খেতে বসেও পুলিশি হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছেন।ঢাকায় নোবেল বিজয়ী বিশ্বব্যক্তিত্ব প্রফেসর ইউনুচের সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন করতে হয়েছে সরকারী বিরোধীতার চাপ সহ্য করার বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে।

 

বিএনপির অভিযোগ আওয়ামীলীগ হিটলারের অনুসারী।আওয়ামীলীগের জবাব বিএনপি হিটলারের প্রেতাত্মা।মন্ত্রীরা প্রকাশ্যেই দাবি করছেন  আগামীতে ক্ষমতায় আসতে না পারলে কচু কাটার শিকার হবেন সরকারী দল।

 

আওয়ামীলীগ নেতারা ৭২/৭৩/৭৪ সালের মতো জামাতে ইসলামী/মুসলিম লীগ পরিবারে আত্নীয়তা করার রাজনীতির সুবিধা খুঁজছেন।তখন আশ্রয় দিয়ে সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা নিয়েছে তারা।এখন নাকি খুঁজছেন ভবিষ্যতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।এই লক্ষ্যে আগ্রহী জামাত পরিবারের যে কাউকে আওয়ামীলীগে নেয়া হচ্ছে।

 

ভারতে সরকারি রাজনীতির কি হালহাকিকত?‘মুসলমানমুক্ত ভারত’ করার নীতি ঘোষণা  এসেছে। এই সাম্প্রদায়িক জঙ্গিত্ব  অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আপত্তির মুখে পড়েছে।তাই ভিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রে লোকসভা(জাতীয়  সংসদ)এবং রাজ্যে   রাজ্যসভায় ঝড় উঠছে।বিজেপি শাসিত প্রদেশগুলো গণপিটুনির বর্বরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।বিশেষ করে ঝাড়খন্ড ও মধ্যপ্রদেশ।

 

নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হবার পরেই এসব ঘঠনা ঘটার অভিযোগ উঠেছে লোকসভায়।আসাম ত্রিপুরায় বিজেপির পৃষ্টপোষকতায় হিন্দু জঙ্গি সশস্ত্র ট্রেনিং চলছে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও ট্রেনিং দেয়ার ছবি আসছে মিডিয়ায়।পশ্চিমবঙ্গ বিভক্ত করা নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে ‘অন্ধের হাড়িভাঙ্গা খেলা’র উত্তাপ উঠেছে তুঙ্গে।

 

পাকিস্তানের অবস্থা কি? ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে।২৮তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই নয়া প্রধানমন্ত্রী তার আগেকার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন।বলেছেন, সুপ্রীম কোর্টের রায় পাকিস্তান মুসলিমলীগকে বিভক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে দূর্নীতির কোন অভিযোগ নেই বলে পরিস্কার দাবি তার।

 

বলেছেন,পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করাসহ বড় আকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তার তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। কথিত পানামা পেপার্স দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করার পাঁচ দিনের মাথায় নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন আব্বাসি।বিরোধীদলের নেতা এবং ক্রিকেট ষ্টার  ইমরান খানও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় শক্তির ষড়যন্ত্র বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান বৃটিশ উপনিবেশের ঐতিহ্যগত অধীনতাভিত্তিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির বলয়ের খাদে এখনো হাবুডুবু খাচ্ছে।রাষ্ট্রনায়ক অথবা রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য থেকে এদেশগুলোয় এখনো বিশ্বমানের রাজনীতি উপস্থাপিত হয়নি বা হওয়া সম্ভব হয়নি।বিভক্তি ও সংঘাতগুলোর ধরণ এখনো আধুনিক উন্নয়নের যুক্তি পায়নি।সাম্রাজ্যবাদের সেবার শর্তেই এই তিন দেশের সরকার গঠনের দল বা নীতি নির্ধারিত হয়ে আসছে।

 

পাকিস্তানে সংসদ সাবেক পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসিকে ১লা আগষ্ট মঙ্গলবার দেশটির ২৮তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে সরে দাঁড়ানোয় নওয়াজ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

 

সংসদে তার পক্ষে ২২১ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী নাভিদ কামার পেয়েছেন মাত্র ৪৭ ভোট। স্পিকার  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে  আব্বাসিকে নির্বাচিত ঘোষণার পর সংসদের  পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এনের সদস্যরা নওয়াজের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন।

 

নির্বাচিত হওয়ার পর আব্বাসি সংসদ সদস্য, জনগণ এবং জনগণের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, কাদা ছোঁড়াছুড়ি সত্ত্বেও ইমরান খানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, পাক সুপ্রিম কোর্টের রায় পাকিস্তান মুসলিম লীগ বা পিএমএল-এনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগকরাসহ বড় আকারের উন্নয়নমূলক তৎপরতার জন্য তারা তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।পানামা পেপারকে কেন্দ্র করে নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করার তিন দিনের মাথায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন আব্বাসি।

 

‘বিজেপি কী মুসলিম মুক্ত ভারত চাচ্ছে?’ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল এমপি অধ্যাপক সৌগত রায় লোকসভায় শাসক দল বিজেপি’র উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন করেছেন। ভারতের বিভিন্নস্থানে গণপিটুনির ঘটনা প্রসঙ্গে লোকসভায় আলোচনার সময় গতকাল (সোমবার) তিনি ওই মন্তব্য করেন।

 

সৌগত রায় বলেন, গণপিটুনিতে হত্যার ৯৭ শতাংশ ঘটনাই কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি এর মধ্যে হিন্দু-মুসলিমের প্রশ্ন আনতে চাচ্ছি না, কিন্তু গণপিটুনিতে হত্যার ৯৭ শতাংশ ঘটনাই নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ঘটেছে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ শতাংশই মুসলিম।তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের জিজ্ঞেস করতে চাই,আপনারা কংগ্রেস মুক্ত ভারতের কথা বলে থাকেন কিন্তু আপনারা কী মুসলিম মুক্ত ভারতও চান?’

 

সংসদে সোমবার কংগ্রেস এমপি মুহাম্মদ আসারুল হক টুপি ও বোরকা পরিহিতদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, টুপি পরা ও দাড়ি রাখা লোক এবং বোরখা পরা নারীরা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। লোকেরা তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করছে, এর প্রতিবাদ করলেই তারা আক্রমণ করছে।সংসদে বিজেপি এমপি হুকুমদেব নারায়ণ যাদব গণপিটুনির ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

 

ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেত্রী সাধ্বী প্রাচি গতবছর জুনে ‘মুসলিম মুক্ত ভারত’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। সেসময় তার বিরুদ্ধে পাঞ্জাব এবং কেরালায় পৃথকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়।সাধ্বী প্রাচি বলেছিলেন, আমরা ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ অভিযান সম্পূর্ণ করেছি। এবার দেশকে মুসলিম মুক্ত করার সময় এসেছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’

 

সাধ্বী প্রাচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সে সময় জম্মু-কাশ্মির বিধানসভাতেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।এর আগে ২০১৪ সালে আরএসএস সংশ্লিষ্ট ধর্ম জাগরণ মঞ্চের নেতা রাজেশ্বর সিং ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতকে মুসলিম ও খ্রিস্টান মুক্ত করার ঘোষণা দেয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

 

ভারতীয় সংসদে ১লা আগষ্ট  দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশ গণপিটুনির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।তিনি দেশের বিভিন্নস্থানে গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন।

 

আগেরদিন সোমবার কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে গণপিটুনি প্রসঙ্গে লোকসভায় বলেন, ‘দেশে ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গোটা বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।কয়েকটি শহরে উত্তেজিত জনতার সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা থামছে না।যে-ই নিহত হোক না কেন, তা সে ধর্মের নামে হোক  বা গরু জবাইয়ের নামে হোক দেশে অসন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘এদেশে কী সরকার এবং আইন নেই? গত ৭০ বছরে এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি।’

 

খাড়্গে বলেন, ‘নিরীহ লোকদের হত্যা করা হচ্ছে। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। দেশে যখন থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের পা পড়েছে তখন থেকে এ ধরণের ঘটনা শুরু হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার পক্ষেরও হাত রয়েছে।’

 

খাড়্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘গো-রক্ষার নামে সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু এ ধরণের লোকেদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন? কত লোকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে?’

 

তিনি বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনায় বিজেপিসংশ্লিষ্ট সংগঠনের হাত রয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং গো-রক্ষক দলের মতো গোষ্ঠীগুলো কে সরকার উৎসাহ দিচ্ছে।’ খাড়্গে বলেন, ‘ধর্মের নামে, গরুর নামে, গো-রক্ষার নামে এ ধরণের ঘটনা কোনো দেশেই হয় না যা এদেশে হচ্ছে।’ মল্লিকার্জুন খাড়্গে আজ সংসদে আলওয়ার, জম্মু ও উজ্জয়নীর সহিংস ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় তিন দেশে সরকারগুলোয় যা চলছে, তা কি রাজনীতির অনিবার্য্য পরিণতি? নাকি এই পরিস্থিতির পেছনে কোন বৈশ্বিক চাপ কাজ   করছে, তা নিয়ে চিন্তাশীল মানুষের ভাববার বিষয়তো আছেই।

 

চীনের সামরিক, আর্থিক এবং প্রকৌশলগত উত্থানের সাথে রাশিয়ার ফিরে দাঁড়ানোর বর্তমানকালে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই উক্ত দুই শক্তির তলে তলে বোঝাপড়া হয়ে যাওয়ায় এই তিন বড়শক্তি আসলে তাদের স্বার্থ রক্ষায় নয়া মেরুকরণ সাজাচ্ছে?

বিতর্কিত সীমান্তে অবৈধভাবে চীনের সেনা প্রবেশের বিষয়ে অজুহাত তৈরির জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছে চীন। দেশটি বলেছে, ভারতের এ মিথ্যা অজুহাতের পরও বেইজিং অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।

 

সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে মারাত্মক পরিণতি বরণ করতে হবে বলে ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সীমান্তে ভারতীয় সেনা সমাবেশ অবশ্যই শান্তির জন্য নয়। যদি তারা শান্তি চায় তাহলে শিগগিরি এসব সেনা সরিয়ে নিত হবে।

চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ জিনসং বলেছেন, “তৃতীয় পক্ষ ভুটানের নিরাপত্তার অজুহাত তুলে ভারতীয় সেনাদের সীমানা রেখা পার হওয়া বেআইনি।”

 

এই অঞ্চলে নয়া ঝড়ের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের মানচিত্রের নক্সা কার্যকর করতে চলেছে বলেই মনে  হয়।

ছবিতে প্রথম থেকে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভা সদস্য মল্লিকার্জুন খাড়েগ। তৃণমূল নেতা ও লোকসভা সদস্য  অধ্যাপক সওগত রায়।পাকিস্তানের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী  শাহেদ খাকান আব্বাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.