বাঘার পদ্মায় ফের ইলিশ ধরা শরু ঃ জেলেদের মধ্যে কর্মতৎপরতা

রাজশাহীর বাঘার পদ্মায় গতকাল সোমবার থেকে ইলিশ ধরা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। তারপর থেকে জেলেরা জাল নৌকা নিয়ে ইলিশ ধরতে ফের পদ্মা নদীতে শরু করেছে। ফলে জেলেদের মধ্যে প্রান চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ৬ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে শরু করে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাঘার পদ্মা নদীতে ২৬ কিলোমিটার ২২ দিন মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে এ সময় মাছ ধরা সংরক্ষণ, ক্রয়, বিক্রয় পরিবহন, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে দীর্ঘদিন বাছ ধরা থেকে জেলেরা বিরত ছিলেন। চকরাজাপুর গ্রামের জেলে ওলিউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর বর্তমানে পদ্মা নদীতে ছোট বড় দিয়ে অর্ধশতাধিক জেলে মাছ শিকার করছেন। বর্তমানে তিনি পদ্মা নদীর মধ্যে প্লেনপাড়া এলাকায় মাছ শিকার করছেন। তিনি সকাল থেকে ১০ কেজি ইলিশ ধরেছেন। এছাড়া সবাই মিলে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ মন ইলিশ ধরেছেন।
বাঘা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট এক হাজার ৩০৭ জন জেলে রয়েছে। এরমধ্যে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৯৩৮ জন। পদ্মা নদীর আশেপাশে চকরাজাপুর নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১২১ জন, মনিগ্রাম এলাকায় ৬০ জন, পাকুড়িয়ায় ৬০ জন, গড়গড়ি এলাকায় ৪০ জন ও বাঘা পৌর এলাকায় ৩০ জন। মোট ৩২১ জন জেলেকে ২০ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে।
আলাইপুর গ্রামের জেলে জহুরুল ইসলাম, চকরাজাপুর গ্রামের আবদুর রব খাঁ, আফজাল হোসেন, মহিদুল ইসলাম বলেন, শিকারকৃত মাছের মধ্যে ৭০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম উজনের মাছ ইতিমধ্যে সাড়ে চারশত টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া আড়াই’শ গ্রাম থেকে শুরু করে সাড়ে চার’শ গ্রাম ওজনের মাছ দুই’শ টাকা থেকে আড়াই’শ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই মাছগুলো ফড়িয়াররা ক্রয় করে বিভিন্ন এলাকায় হাট-বাজারে ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে।
বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করার দায়ে ২২ দিনে ২২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের এক লক্ষ ১৪ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১৭০ কেজি ইলিশ এবং দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সাতটি মোবাইল কোটের মাধ্যমে ১৩ জন অসাধু জেলের ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জালগুলো জনস্মুখে পুড়িয়ে দেয়া হয়।