Thu. Aug 22nd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

বাঙালি মুসলিম পুনর্জাগরণের এক নওয়াব

1 min read

বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, মুসলিম যুবকদের আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে সচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন। এ উ্দ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘কলকাতা মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’। তিনি হচ্ছেন নওয়াব আবদুল লতিফ। বাঙালি মুসলিম পুনর্জাগরণের এই অগ্রদূতের ১২৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

নওয়াব আবদুল লতিফের জন্ম ১৮২৮ সালের ৩ মার্চ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর রাজাপুর গ্রামে। ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তার পিতা ফকির মাহমুদ ছিলেন কলকাতার সদর দেওয়ানী আদালতের আইনজীবী। নওয়াব আবদুল লতিফ কলকাতা মাদ্রাসা থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৮৪৬ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এর শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৮৪৮ সালে তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় আরবি ও ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

আবদুল লতিফ সাতক্ষীরায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত অবস্থায় সেখানকার কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকরদের নির্যাতন ও শোষণ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সেখানকার কষকদের ঐক্যবদ্ধ হতে এবং তাদের অভিযোগ সরকারকে জানাতে উৎসাহ দেন।

নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬২ সালে লর্ড ক্যানিং-এর শাসনামলে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য মনোনীত হন। ১৮৬৩ সালে সিভিল ও মিলিটারি সার্ভিস সমূহের পরীক্ষক বোর্ডের সদস্য এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলো নিযুক্ত হন। ১৮৬৫ সালে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ‘জাস্টিস অব দি পিস’নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল থাকেন।

কর্মদক্ষতা এবং শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানে ব্রিটিশ সরকার তাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপাধি ও পদক প্রদান করে। তিনি ১৮৬৭ সালে সরকারের কাছ থেকে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৮৭৭ সালে ‘খানবাহাদুর’, ১৮৮০ সালে ‘নওয়াব’, ১৮৮৭ সালে ‘নওয়াব বাহাদুর খেতাবে ভূষিত হন।

তার স্মরণে নওয়াব আবদুল লতিফ গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরের রাজাপুর গ্রামের রাঙ্গামুলাকান্দি হাজী আব্দুল্লাহ একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনায় বক্তারা সরকারের কাছে তার রাজাপুর গ্রামের বাড়িটি দখলমুক্ত করে মিউজিয়াম স্থাপনে দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি ডা. এমএ জলিলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকাদ্দেস হোসেন মোল্লা, মফিজ ইমাম মিলন, আয়ুব আলী মৃধা, ইউনুচ আলী মিয়া, বিকাশ কুমার সিকদার, কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা, শ্রাবনী আক্তার স্নিগ্ধা ও মো. জুবায়ের হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নওয়াব আবদুল লতিফ গবেষণা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA