বাজার থেকে উধাও জ্বর-সর্দির ওষুধও

প্রকাশিত: ১:২৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

বাজার থেকে উধাও জ্বর-সর্দির ওষুধও

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দিনে দিনে বিস্তৃত হতে থাকায় বাজার থেকে হাওয়া হয়ে গেছে জ্বরসহ সর্দি-কাশির বেশ কিছু সাধারণ ওষুধও। এর আগে বাজার থেকে হ্যাক্সিসল ও অন্যান্য হাত পরিষ্কারক সামগ্রী (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) উধাও হয়ে যায়। অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে বহুল ব্যবহূত এজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধও। পরে পাওয়া যাবে না, কিংবা জ্বর-সর্দির প্রাথমিক চিকিত্সা হিসেবে মানুষ ‘হুজুগে’ এসব ওষুধ কিনে বাসায় নিয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করার বিষয়ে সচেতন হওয়ায় হ্যাক্সিসলসহ এজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে একধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেদারসে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ বাড়তি দামও নিচ্ছেন।

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা উত্পাদন ও সরবরাহ বাড়িয়েছেন, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। অন্যদিকে প্রয়োজন ছাড়া হুজুগে ওষুধ কিনে বাসায় মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে তারা চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

মাহমুদ ইসলাম নামে রাজধানীর রামপুরা এলাকার এক বাসিন্দা স্থানীয় লাজ ফার্মায় তিন দিন ঘুরেও হ্যাক্সিসল পাননি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, তার এলাকার অন্তত আটটি ওষুধের দোকান খুঁজেও হ্যাক্সিসল পাননি। ভিটামিন সি-জাতীয় ওষুধ, সর্দি ও কাশির কিছু সাধারণ ওষুধ এবং এজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু রামপুরা এলাকা নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ ধরনের ওষুধের আকালের চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি ফার্মেসির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মানুষ এসব ওষুধ মজুত করেছে। তাই তার ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ, রিকনিল (ম্যালেরিয়াজাতীয় জ্বরের ওষুধ), ফেক্সোফেনাডিন, হিস্টাসিন, অ্যালাট্রল, অ্যান্টাজল নেজাল ড্রপ, ভিটামিন সি ও এজিথ্রোমাইসিনজাতীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারও নেই।

জানা গেছে, এখন ডাক্তাররা জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা গলা ব্যথার রোগী সরাসরি দেখতে চান না। সেক্ষেত্রে অনেক সময় টেলিফোনে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। কিন্তু অনেক ফার্মেসিই ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ওষুধ বিক্রি করছে না।

দেশে হ্যাক্সিসল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় সরবরাহ বিভাগের প্রধান আরিফ বিল্লাহ চৌধুরী। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘আমরা উত্পাদন বাড়িয়েছি। ২৪ ঘণ্টাই উত্পাদন চলছে। কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেছে অনেক বেশি। ফলে কুলিয়ে উঠতে পারছি না।’

ইস্যুটি নিয়ে সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •