বাবাকে বাঁচাতে…

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

বাবাকে বাঁচাতে…

ক্যানসারে আক্রান্ত বাবা। সুস্থ করার জন্য বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। কিন্তু কে দেবে বোন ম্যারো? এ নিয়ে যখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলায় দুলছে গোটা পরিবার তখন বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে ছোট্ট লু জিকুয়ান।

 

লু জিকুয়ানের পরিবারের বসবাস চীনের হোবেই প্রদেশের জিনজিয়ান শহরে। সাত বছর আগে তার বাবার ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত আগস্ট থেকে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

 

রোগীকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে লু জিকুয়ানের সঙ্গে তার বাবার বোন ম্যারোর মিল খুঁজে পান চিকিৎসকরা। মিল পাওয়া গেলেও লু জিকুয়ানের ওজন কম হওয়ায় চিকিৎসকরা তার বোন ম্যারো নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ বোন ম্যারো অপসারণের জন্য যেখানে একজন মানুষের ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি হতে হয়, সেখানে লু জিকুয়ানের ওজন মাত্র ছিল ৩০ কেজি।

 

তবে বাবার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার কারণে ওজনজনিত সমস্যা সমাধানে লু জিকুয়ান নিজেই এগিয়ে এসেছে। নিজের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকা সত্বেও দিনে পাঁচবার খাওয়া শুরু করেছে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বাদ দিয়ে বেশি করে তৈলাক্ত খাবার ও মাংস খাচ্ছে। এতে তার ওজন বাড়ছে দ্রুত। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই প্রচেষ্টার ফলে লু জিকুয়ানের ওজন পঁয়তাল্লিশ কেজিতে পৌঁছেছে। তবে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিড়ম্বনাও বেড়েছে। স্কুলের বাচ্চারা তাকে মোটা বলে খেপাচ্ছে। তবে এসব গায়ে মাখছে না সে। তার ভাষ্যমতে, ওজন পরে কমানো যাবে কিন্তু বাবা মারা গেলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

 

লু জিকুয়ানের এই আত্মত্যাগ কোটি মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। এত ছোট বয়সে এত বড় দায়িত্ব কাঁধে নেয়ায় প্রশংসা পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তার বাবার চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য তহবিল গঠনেরও কাজ শুরু হয়েছে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •