বিক্ষোভে উত্তাল বায়তুল মোকাররম এলাকা

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৬ অক্টো ২০২০ ০১:১০

বিক্ষোভে উত্তাল বায়তুল মোকাররম এলাকা

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকা। গতকাল জুমার নামাজের পর পূর্বঘোষিত কর্মসুচি অনুযায়ী ধর্ষণ ও জিনা-ব্যভিচার প্রতিরোধে ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সমমনা ইসলামী দলসমূহ। ৬ টি দলের ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। তাদের বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। নামাজের আগে থেকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়। নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সমাবেশে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব এবং সমমনা ইসলামী দল সমুহের সমন্বয়ক আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন করলেই হবে না আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। জিনা, ব্যভিচার, ধর্ষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে একদিকে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সবাই দিশেহারা। অন্যদিকে মা-বোনদের ইজ্জত আব্রু লুন্ঠিত হচ্ছে। ধর্ষণের উৎস পশ্চিমা নগ্নতা, বেহায়াপনা বন্ধ না হলে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। অপসংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। আমাদের শিক্ষা নীতি ও পাঠ্য সূচিকে কোরআন সুন্নাহর আলোকে সাজাতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশে যখনই ক্রান্তিকাল এসেছে তখন আলেম ওলামারা বসে থাকেনি। এখনও থাকবে না। সরকার অপকর্মকারীদের দমন না করলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী ও মুসলিম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে- জিনা, ব্যাভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধে জনসম্মুখে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; পর্ণোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রাপ্তি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা; নারীর অশ্লীল উপস্থাপনা ও পণ্য হিসাবে ব্যবহার বন্ধ করা; আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং বিচার কাজকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা এবং নারীর মর্যাদা এবং অধিকার সংরক্ষণে কুরআন-হাদীসের শিক্ষাসমূহ জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •