বিজয়ের মাসে তাদের ভাবনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসে ২০২০ ০৯:১২

বিজয়ের মাসে তাদের ভাবনা

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: ডিসেম্বর ১৬ তারিখ। মহান বিজয় দিবস। যেখানে লুকায়িত আছে গৌরব আর অহংকার। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পেয়েছিলাম লাল সবুজের পতাকা। স্বাধীন একটি দেশ। বিশ্বের বুকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশ। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল দেশের তরুণ সমাজ। বিজয়ের মাসে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ আলামতারণ্যের মাঝে অঙ্কুরিত করি দেশপ্রেমের বীজ

১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধি করে যাচ্ছে। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিপ্লব করে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকল্প নেই। বিজয়ের এই অর্ধশত বছরের প্রাক্কালে চলুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ অবদান রাখার। তারণ্যের মাঝে ছড়িয়ে দিই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং অঙ্কুরিত করি দেশপ্রেমের বীজ। তবেই তারণ্যরা আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে।

রেজাউল করিম
সভাপতি, শেকৃবি ডিবেটিং সোসাইটি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর বাংলাদেশ চাই
দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা পেয়েছিলাম আমাদের স্বাধীনতা, একটা স্বাধীন রাষ্ট্র, সেই স্বাধীনতার মেলবন্ধনে আমরা মনের সুখে হাসতে পারি, বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি। তবে আমাদের এই বিজয় শুধু একটি পতাকা বা দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এটা নয়। সর্বোপরি স্বাধীনতার এই ৪৯ বছরে স্বপ্ন দেখি বাক স্বাধীনতাপূর্ণ, সুষ্ঠু গণতন্ত্র, সুষ্ঠু ভোটাধিকার, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ, জন নিরাপত্তার একটি স্বপ্নিল বাংলাদেশের। ব্যক্তিস্বার্থ উপেক্ষা করে ও দল মত নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেকটা মানুষ স্বপ্ন দেখুক এক নতুন বাংলাদেশের। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশাত্ববোধ।

তানজির আহমেদ
সিনিয়র রোভারমেট, শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপ

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও বৈষম্য সর্বত্র
স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মধ্যে এদেশে বহুবিদ উন্নয়ন সাধন হয়েছে। আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ফলশ্রুতিতে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পেরেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারিনি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ধনী গরিবের বিশাল বৈষম্য আজ সর্বত্র। বাংলার স্বাধীনতার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ তখনই হবে যখন বাংলার প্রত্যেক যুবসমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে এবং যুব মেধাশক্তির যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

নিলয় জামান
সভাপতি, শেকৃবি বাঁধন ইউনিট

তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে দেশপ্রেমে
তারুণ্য মানেই শক্তি, তারুণ্য মানেই বিজয়। তারুণ্য মানেই হার না মানা, তারুণ্য মানেই নির্ভীক চিত্ত। এই তারুণ্যের হাত ধরেই এসেছে আমাদের গৌরবগাথা। ডিসেম্বর আসলেই আমাদের মনে পড়ে যায় সেই গৌরবান্বিত বিজয়। তবে বর্তমানে এই তরুণ সমাজকে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ভ্রান্ত পথে চালানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। যার ফলে সমাজে সৃষ্ট হচ্ছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অনৈতিক কর্মকা-। তাই বিজয়ের এই মাসে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে দেশপ্রেমে। তাদের সঠিক পথ দেখানোর মাধ্যমে সুযোগ করে দিতে হবে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •