বিদ্যালয়ে মহানুভবতার দেয়াল

২০১৫ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বের শহর মাশাদে প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময়টা ছিল শীতকাল। সেখানে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এমন উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছিল ‘মহানুভবতার দেয়াল’। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে সে খবর প্রচারিত হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর জনমনে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল এমন উদ্যোগের জন্য।

সেই ঘটনার পর ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকেই বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল এসসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। পাশাপাশি খুলনাতেও এমন উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে।

> আরও পড়ুন- গণিতে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ জয়

দেশের অন্যান্য উদ্যোগের খবর ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে না পড়লেও সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মহানুভবতার দেয়াল’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনীন মিষ্টির নেতৃত্বে। জেলা সদরের দক্ষিণ মকসুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চালু করা হয় চলতি বছরের ৮ আগস্ট থেকে। নাজনীন মিষ্টি তার পরিবারের সদস্যদের কাপড় দিয়ে শুরু করেন। এতে একদিনেই অনেক বেশি সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডের পাশেই হ্যাঙ্গার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর দেয়ালের নাম রাখা হয়েছে ‘মহানুভবতার দেয়াল’। এই দেয়ালের একপাশে লেখা রয়েছে, ‘তোমার যা প্রয়োজন নেই তা এখানে রেখে যাও।’ আবার অন্যপাশে লেখা রয়েছে, ‘তোমার দরকারি জিনিস পেলে নিয়ে যাও।’ শিক্ষকদের এমন মহান কাজে শিক্ষার্থীরাও সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাদের অব্যবহৃত বা অপ্রয়োজনীয় পোশাক ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে যাচ্ছে। আবার তাদের যেসব পণ্য দরকার, তারা তা নিজের মনে করে নিয়ে যাচ্ছে।

> আরও পড়ুন- ৮২ বছর বয়সে কেটেছেন ১৪টি পুকুর

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনীন মিষ্টি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রয়োজনের প্রতি সচেতন ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে বাচ্চারা বেড়ে উঠুক। এটাই আমাদের চাওয়া। এমন মহতী কাজে সবাই এগিয়ে এলে আমাদের দেশ উন্নত বিশ্বের কাছে আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক নাহিদা নাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘নাজনীন মিষ্টি আমার বন্ধু। মিষ্টির এমন উদ্যোগে আমি গর্বিত। সারা দেশে ওর মতো নিবেদিত শিক্ষক প্রয়োজন। শুধু এটাই নয়, মিষ্টি অজস্র সুন্দর সুন্দর কাজের জন্য অবশ্যই আমাদের মত অনেকের অনুসরণযোগ্য।’

 

> আরও পড়ুন- পথশিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট নতুন জামা’

উদ্যোগটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনু। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ সেই মহানুভবতার দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাসিমুখের ছবি দেখতে দেখতে কখন যেন মনে হল, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। অনেক শুভকামনা তোমাদের জন্য…।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.