বিনা খরচে দলিল পেয়ে কাঁদলেন ভূমিহীন কাজলী বেগম

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৪ আগ ২০২০ ০৮:০৮

বিনা খরচে দলিল পেয়ে কাঁদলেন ভূমিহীন কাজলী বেগম

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গতবারের ভয়াবহ নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩শ পরিবারের মধ্যে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৫৪টি পরিবার প্রধানের হাতে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের দলিল তুলে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তার কার্যালয় থেকে এ দলিল হস্তান্তর করেন।
জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ঘর তুলে দেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে প্রশাসনের। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের উর্দ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ের বাইরে কথা হয় জমির দলিল হাতে পাওয়া অসহায় কাজলী বেগমের (৬৫) সাথে। তিনি জমি পাওয়ার আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, গত বছর দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রামের আরো অনেকের মতো আমারও ভিটে-বাড়ী নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তারপর থেকে রাস্তার ধারে একমাত্র মেয়ে ও দুটি নাতী-নাতনী নিয়ে মাথা গুজে ছিলাম। তবে ভাঙনের কিছুদিন পরই এসিল্যান্ড স্যার আমার খোঁজ করে নাম নিয়ে আসেন। তিনি ভরসা দেন আপনাদের বেশী দিন রাস্তার ধারে থাকতে হবে না। আজকে তার কথা অনুযায়ী আমি ১০ শতাংশ জমির একটি দলিল হাতে পেলাম। শুনেছি দলিল খরচের জন্য সরকারিভাবে কিছু খরচ লাগে। কিন্তু এসিল্যান্ড স্যার আমার থেকে সে টাকাটাও নেননি। আমি তার জন্য এবং দেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়ার সাইদ মোল্লা (৪৫), মজিদ মোল্লা (৭০), রূপবান বেগম (৩৫)সহ আরো অনেকেই জানান, নদী ভাঙনের সব হারানোর পর পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলাম। আজকে দলিল হাতে পেয়ে মনে শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য সরকার সত্যিই কাজ করছে। আমাদের জমি পেতে কারো সাথে দেন দরবার করতে হয়নি। এসিল্যান্ড স্যার নিজে ঘুরে ঘুরে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরী করেছেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবারের নদী ভাঙনে ভিটে-মাটি হারা হয় অন্তত সহ¯্রাধিক পরিবার। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ পরিবার নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনে/লিজ নিয়ে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু আমাদের জরিপ অনুযায়ী ৩শ পরিবার তাদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতে পারেন নি। তারা রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রথম ধাপে এদের মধ্য থেকে আজকে ৫৪ জনের হাতে দলিল তুলে দিলাম। বাকীদেরও পর্যায়ক্রমে দলিল হস্তান্তর করা হবে। এ কাজে কোন মধ্যস্বত্ত্বভোগী যাতে অবৈধ সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য তিনি নিজে সরেজমিন ঘুরে ঘুরে তালিকা প্রস্তুত এমনকি দাফতরিক বেশীর কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, ইউএনও হিসেবে আমার পদোন্নতি হয়েছে। আর হয়তো সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ এ উপজেলায় আছি। শেষ বেলায় কিছু অসহায় মানুষের মুখে হাসি দেখে যাওয়া আমার জন্য অনেক মানসিক শান্তির বিষয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় চলমান নদী ভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে মাথাগোঁজার জন্য জমির বন্দোবস্ত এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে ঘর তুলে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •