বিভাগীয় প্রার্থীতা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের অধিকার

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৭ আগ ২০২০ ০২:০৮

বিভাগীয় প্রার্থীতা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের অধিকার

মোঃহারুনুর রশিদ,সহকারী শিক্ষক

 প্রতিটি মানুষের একটা স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী বা সাথী করে সে সামনের পথ অতিক্রম করতে চাই। যেমন আমাদের বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশকে মুক্ত করবেন। একটা স্বাধীন ভুখন্ড হবে আমাদের। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকবে বাংলার প্রতিটি মানুষ। একজন সহকারি শিক্ষক হিসাবে তাই তার এমন স্বপ্ন থাকে বা দেখেন এটা স্বাভাবিক। একজন সহকারি শিক্ষক যখন তার চাকরী জীবন শুরু করেন তখন তার স্বপ্ন থাকে সে বিভাগীয় প্রার্থীতা হয়ে বড় একজন কর্মকর্তা হবেন। বিভিন্ন অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রনালয়ের নিম্নপদের কর্মচারীরা যখন এ সুযোগ পান তখন একজন সহকারি শিক্ষক হিসাবে আমাদেরও সেই স্বপ্ন দেখার কথা বা থাকার কথা। কিন্তু আমি অবাক হই, উত্কণ্ঠিত হই, শঙ্কিত হই, আমি হতভম্ব, বিমূঢ় কিভাবে সম্ভব যে একজন সহকারি শিক্ষক বিভাগীয় কোঠা বা প্রার্থী হতে পারবেন না।যেখানে পূর্বের নিয়োগ বিধিতে ৪৫ বছর পর্যন্ত তাদের বিভাগীয় প্রার্থী হয়ে আবেদন করার অধিকার ছিল সেখানে কিভাবে এখন এটা বন্ধ করা হলো বা রহিত করা হলো?বর্তমান খসড়া নিয়োগ বিধিতে প্রধান শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বাগত জানায় তাদের, আশির্বাদ রইল তাদের জন্য কিন্তু আদ্যো কি তারা বিভাগীয় প্রার্থী হয়ে আবেদন করতে পারবেন? দেখি একটু বিশ্লেষন করি। বর্তমানে বলা হচ্ছে নিয়োগবিধি অনুসারে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এতে শতভাগ পদন্নোতি দেওয়া হবে আবার প্রধান শিক্ষক পদেও সহকারি প্রধান শিক্ষক হতে শতভাগ পদন্নোতি দেওয়া হবে। তাহলে দেখা যায় যে, বর্তমানে সহকারি শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করা হবে আবার সেখান থেকে প্রধান শিক্ষক পদ পর্যন্ত শতভাগ পদন্নোতি থাকছে। সরাসরি সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে চাকরির বয়স আমরা জানি নিয়ম অনুসারে ৩০ বছর পর্যন্ত হয়। আর একজন শিক্ষার্থীকে অনার্স মাস্টার্স করতে কমপক্ষে ২৫ বছর, ২৬ বছর লাগে, কারো কারো ২৭ বছর পর্যন্ত লাগে। তার আগে অনার্স, মাস্টার্স করা সম্ভব নয়। ধরলাম বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুসারে একজন শিক্ষার্থী সহকারি শিক্ষক পদে ২৭ বছরে এ্যাপলিকেশন করে সব প্রক্রিয়া শেষে ২৮ বছরে চাকরি পেল। সহকারি শিক্ষক হতে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে পদন্নোতি হতে প্রাথমিকে কমপক্ষে ১০ বছর ধরলাম। তাহলে তার চাকরির বয়স হলো ৩৮ বছর। এবার সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ হতে প্রধান শিক্ষক পদে পদন্নোতি পেতে কমপক্ষে ৭, ৮ বছর সময় লাগবে যদিও প্রাথমিকে সেটা শুধুই কল্পনা। ধরলাম, তার সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ হতে প্রধান শিক্ষক পদে পদন্নোতি নিয়ম অনুসারে ৮ বছর লাগলো তাহলে তার বয়স হলো ৩৮+ ৮ = ৪৬ বছর। প্রশ্ন হলো সে ৪৬ বছরে গিয়ে তারা কিভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হবেন? তারপরও ধরলাম প্রধান শিক্ষক পদে একজন সহকারি প্রধান শিক্ষক খুব দ্রুত ৪৪ কিংবা ৪৫ বছরে পদন্নোতি পেল। কিন্তু প্রশ্ন হলো উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মতো পদে ৪৪ বছর পর কিংবা ৪৫ বছর পর কি তারা পড়াশুনা করে যোগ্য প্রার্থী হবেন? নিশ্চয় হবেন না, মিরাক্কেল ছাড়া এটা সম্ভবও নয়? তাহলে হাস্যকর এই বিভাগীয় কোটা প্রধান শিক্ষকদের জন্য কেন রাখা হলো? কেন শিক্ষকদের নিয়ে এই উপহাস? সহকারি শিক্ষকদের যদি বিভাগীয় কোটা পূর্বের মতো বহাল থাকতো আর প্রধান শিক্ষক পদ পর্যন্ত যদি শতভাগ পদন্নোতি থাকতো তাহলে একজন সহকারি শিক্ষক অনার্স মাস্টার্স পাশ করে সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান করতো এবং সাথে সাথে সেই প্রিপারেশনে তারা বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে প্রতিবছর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা পদে যোগ্যতার সহিত যোগদান করার অধিকার রাখতো এবং তারা ২৮ বছর থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত একাধিকবার পরীক্ষায় বসার ফলে তাদের অভিজ্ঞতাও বৃদ্ধি পেত। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে হিনমগ্নতা থাকতো না। তারা এই পেশায় আনন্দের সহিত কাজ করতে পারতো। ফলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা তার জন্য আরো সহজ হয়ে যেতো। তবে সহকারি শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে মহাপরিচালক পর্যন্ত শতভাগ পদকে বিভাগীয়ভাবে পদন্নোতি দিলে বর্তমানের এই সমস্যা আর থাকতো না বরং মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই পেশায় আকৃষ্ট হতো। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এতো ভরি ভরি কথা বলার প্রয়োজন পড়তো না। তাই এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রি, মানবতার প্রতিক, মাদার অব হিউম্যানিটির কাছে আমাদের মানবিক দাবি, প্লিজ সহকারি শিক্ষক পদ হতে মহাপরিচালক পদ পর্যন্ত শতভাগ পদ বিভাগীয় পদন্নোতির মাধ্যমে পুরন করুন নতুবা সহকারি শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দানে আপনার সম্মতি দিন। সারাজীবন শিক্ষকেরা আপনার এই অবদান কৃতজ্ঞতার সহিত স্বরণ করবেন।

এই সংবাদটি 1,517 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ