বিলজুড়ে লাল শাপলার মেলা

প্রকাশিত:শনিবার, ১২ অক্টো ২০১৯ ০১:১০

বিলজুড়ে লাল শাপলার মেলা

 

যে দিকে চোখ যায় শুধু লাল শাপলা। যেন লাল শাপলার মেলা বিলজুড়ে। পাহাড়ের কাছে হাওরের এমন সৌন্দর্য স্থানীয়দের তো বটেই, মুগ্ধ করছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকেও।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার থেকে বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্কস্টেশন এলাকায় যেতে কাশতাল গ্রামের পাশে গেলে চোখে পড়বে এই বিল। বাদাঘাট বাজার থেকে দূরত্ব এক কিলোমিটার। সড়কের বাঁ পাশে লাল শাপলার বিকি বিল। আর ডানে তাকালে মেঘালয় পাহাড়। পাহাড়ের ওপরে মেঘের খেলা।

হাওর-পাহাড়ের সৌন্দর্য এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। বিলে শাপলার ফাঁকে ফাঁকে ছোট নৌকায় করে ঘুরছে লোকজন। কোমর জলে নেমে শালুক তুলছে গ্রামের নারী ও শিশুরা। এ এগুলো বিক্রি করে কিছু বাড়তি আয় করে তারা।

লাল শাপলার এই সমারোহ আকৃষ্ট করে যে কাউকে। চাষাবাদ ছাড়াই ১৫-১৬ বছর প্রাকৃতিকভাবে হাওরে ফুটেছে লাল শাপলা। এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা। তবে বিকি বিলে যাওয়ার সড়কের অবস্থা নাজুক।

বিকি বিলটি হলহলিয়ার চক ও দীঘলবাঁক মৌজার প্রায় ১৪ দশমিক ৯৫ একর জায়গা নিয়ে। বছরের ছয় মাস পানি থাকে। ফলে কয়েক মাস লাল শাপলার এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

স্থানীয় বাদাঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, তাহিরপুর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। এখানে টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী), শিমুল বাগান, বারিক টিলা ও যাদুকাটা নদের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন পর্যটক আসে।

তিনি জানান, বিকি বিলজুড়ে লাল শাপলার যে অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে, অনেকের তা নজরে আসেনি। এখন জানতে পেরে মানুষ দেখতে আসছে। আগস্ট থেকে নভেম্বর চার মাস শাপলা থাকে। শাপলার সৌন্দর্য দেখতে হলে সকালে আসতে হবে। সকালে শাপলা ফুটে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে যায়।

শনিবার সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ এই বিল পরিদর্শনে আসেন। তখন এটি পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য নতুন এলাকা হিসেবে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •