বিশেষ সম্পাদকীয় উন্মোচিত হোক ‘আমার কুলাউড়া’

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১০ মে ২০১৯ ০৪:০৫

বিশেষ সম্পাদকীয় উন্মোচিত হোক ‘আমার কুলাউড়া’
মো. জীবন রহমান

রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ সংবাদপত্র। সংবাদপত্র মানে অবশ্যই স্বাধীন সংবাদপত্র। নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, ‘যে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় না।’ দেশের কোনো অঞ্চলে খাদ্যাভাব দেখা দিলে সেটা সংবাদপত্রে ছাপা হবে, তা পড়ে অন্যেরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে যাবে। সুশাসন ও গণতন্ত্রের বিকাশে গণমাধ্যমের প্রসার এবং স্বাধীনতা সে ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বর্ণযুগ চলছে এখন। নানারকম গণমাধ্যম এখন প্রসারমান। একটা সময় সংবাদমাধ্যম বলতে ছিল দৈনিক পত্রিকা। তাও সংখ্যাও হাতে গোনা। বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তথা টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পত্রিকা ও রেডিও। রেডিও মাঝখানে ঝিমিয়ে পড়লেও এফএম রেডিওর আবির্ভাবে আবার ফিরে পেয়েছে হৃত ঐতিহ্য। বাংলাদেশের নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা এখনো খুব একটা কম নয়। নিরক্ষর এবং দরিদ্র লাখ লাখ মানুষ কিন্তু সংবাদপত্রের পাঠক নন। পত্রিকা কেনার সামর্থ্য যেমন এদের নেই, নেই পড়ারও। একটি দৈনিক পত্রিকার দাম ৫ থেকে ১২ টাকা- সে ক্ষেত্রে জয় জয়কার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার। টেলিভিশনই প্রকৃত অর্থে সার্বজনীন হয়ে উঠেছে। প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। ক্ষুদ্র এ দেশে কতগুলো সংবাদপত্র প্রকাশিত, প্রকৃত কার জন্য, কোন মতলবে, এগুলোর পাঠক কারা? খোদ ঢাকা থেকেই প্রকাশিত ও জেলা-উপজেলা মিলে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিশ্বের আর কোনো রাষ্ট্রে এমনটি নেই। অনেকের কাছে বিষয়টা রূপকথার গল্পই বলে মনে হয়। পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি কি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত করে? এই জায়গাটায় একটু থমকিতে হয়। সংবাদপত্রের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ভ‚মিকা থেকে সরে এসেছে অনেকখানি। গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের কণ্ঠস্বর ধারণ করতে ক’টা পত্রিকা বদ্ধপরিকর! এই বন্ধ্যা সময় জš§ নিল আরেকটি আঞ্চলিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়া’। এখনো মানুষ স্বপ্ন দেখে শান্তি ও সমৃদ্ধির, বর্ণিল আগামীর। এখনো তাই নতুন একটি সংবাদপত্রের জš§ মানুষকে সহজেই স্বপ্নাতুর করে তোলে। ‘আমার কুলাউড়া’ পত্রিকাটি শান্তিপ্রিয় শহর ঐশ্বর্য্যবান অকৃত্রিম প্রকৃতির লীলাভ‚মির নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমার অর্থাৎ আপন, একান্ত, একান্তই নিজের মানুষ যেখানেই থাকুক তার নিজের অঞ্চল ও শিকড়ের টানে কিছু একটা চাইছে, স্বপ্ন দেখছে, নিজের ভাবনা ভাবছে যা কিছু জীর্ণ, পুরাতন সেসবকে পেছনে ফেলে চাইছে আপন আঙিনার সান্নিধ্য। চাইছে আপন ভ‚মির ঝলক। এ ‘আমার’র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘কুলাউড়া’। কুলাউড়ার যে আকাল, সুবিবেচনার অকাল মৃত্যু তা ঠেকাতেই যেন ‘আমার কুলাউড়া’ পত্রিকার আবির্ভাব। সংবাদপত্র শুধু সংবাদ দিয়ে দায় সারে না, পাহারাদারের ভ‚মিকাও পালন করে এবং সুরক্ষা দেয় বঞ্চিত মানুষকেও। আলোকিত কুলাউড়া গড়ার স¦প্ন নিয়ে ২০১৪ সালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল আমার কুলাউড়া ডট কম। রাজধানীর গুলশানে দৈনিক মানবকণ্ঠ অফিসে পোর্টালটির উদ্বোধন করেন দেশের খ্যাতিমান কলামিস্ট ও মানবকণ্ঠের তৎক্ষানিক উপদেষ্টা সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। বেগমান হতে থাকে পত্রিকার কার্যক্রম। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল প্রিন্ট সংস্করনের অনুমোদন পায় পত্রিকাটি। ‘সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়া’ এমন একটি সময় কুলাউড়া শহরে এলো, যখন চারদিকে টাল-মাটাল অবস্থা। আঞ্চলিকতার চেতনায় ঘাই মেরে পত্রিকাটি কি পারবে? ‘আধ-মরা’দের আবার সজাগ করে তুলতে? পারতে হবে। নইলে ‘আমার কুলাউড়া’ কেন! পত্রিকাতো কুলাউড়া শহরে কম নেই, তাদের সমান ভ‚মিকা রাখতে চাইলে নিশ্চয়ই এর আত্মপ্রকাশ ঘটত না, সেটার যৌক্তিকতাও নেই। রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হাসিলের হাতিয়ার, সে ক্ষেত্রে সংবাদপত্র যে আঁধারে পথ হারায় বলাবাহুল্য। এসব অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে জল ঘোলা করা যায়। ফিকিরবাজ শ্রেণির মানুষ কৌশলে কিছু লোককে উন্মুক্ত করে দিতে পারে। সরকারকেও সাময়িক বেকায়দায় ফেলা যায় কিন্তু সত্যিকার অর্থে কারোরই উপকার হয় না। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় গণমাধ্যমেরই। এটা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল। সকলের প্রতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ ‘আমার কুলউড়া’র পথ মসৃণ রাখতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

 

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়া শিক্ষানবিশ আইনজীবী জজ কোর্ট, ঢাকা।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •