বিশ্বাস ছিল ঘুরে দাঁড়াতে পারবো : সাকিব

এমনিতেই বাংলাদেশের নামের পাশে একটা চিরকালীন ট্যাগ লাগানো, ‘টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলতে পারে না।’ মাত্রই তো ক’দিন আগে আফগানিস্তানের মত দেশের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। তারওপর সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হার। প্রতিপক্ষ দলটির নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

 

সেই দলটির কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পর পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়। সাকিব আল হাসানের দল, সেই অসাধ্যই সাধন করে দেখিয়েছে। ফ্লোরিডার লডারহিল সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতলো বাংলাদেশ। অসাধারণ টিম পারফরম্যান্স। যার ওপর ভর করে এলো সিরিজ জয়।

 

এমন অসাধারণ জয়ের পর যে কোনো অধিনায়কেরই নিজ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বে বুক ফুলে ওঠার কথা। সাকিব আল হাসানই বা ব্যতিক্রম থাকবেন কেন? গর্বে বুক ফুলে উঠেছে তারও। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাকিব আল হাসান বললেন নিজের মনের কথা।

 

‘অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স পেলাম আমার দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। প্রথম ম্যাচ হারের পর সিরিজে ফিরে আসার জন্য আমাদের দুর্দান্ত পারফম্যান্স করা প্রয়োজন ছিল। দলের ক্রিকেটাররা সবাই সেই পারফরম্যান্সটা দেখিয়েছে। নিজেদের অনেক বেশি প্রদর্শণ করেছে তারা’- ম্যাচ শেষে বললেন সাকিব আল হাসান।

 

নিজেদের ওপর দারুণ বিশ্বাস এবং আস্থা ছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিলেন সেটাও। ‘সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, এই অবস্থা থেকেও কামব্যাক করা সম্ভব। আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মোকাবেলা করেছি এবং সেই মোকাবেলা করতে গিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করেছি।’

 

নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতেও ছাড়েননি সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পুরো সিরিজেই আমি ভালো ব্যাটিং করেছি। বলে ভালোভাবে হিট করতে পারছিলাম। যেটা আমাকে ভালো বোলিং করতেও সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে অধিনায়কত্ব করতেও সহযোগিতা করেছে।’

 

সতীর্থদের জন্য আরও বেশি প্রসংশা ঝরে পড়লো সাকিবের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘যদি আমার সতীর্থরা হৃদয় দিয়ে না খেলতো, তাহলে যেভাবে জিতেছি সেভাবে জিততে নাও পারতাম।’

 

ধীরে ধীরে ওয়ানডের মত টি-টোয়েন্টিতেও ভালো দল হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। সে কথারই প্রতিধ্বনি হলো সাকিবের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘ওয়ানডেতে গত তিনচার বছর আমরা ভালো খেলছি। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে। এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো করতে পারবো এবার। আমাদেরকে এখন টেস্ট ক্রিকেট নিয়েই বেশি কাজ করতে হবে। ঘরের মাঠে ইতিমধ্যেই ভালো করতে শুরু করেছি। এখন আমাদের প্রয়োজন ঘরের বাইরে ভালো টেস্ট খেলার এবং জয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার।’

 

লডারহিলের দর্শকদের উচ্চসিত প্রশংসা ঝরে পড়লো সাকিবের কণ্ঠে। তিনি আগেও বলেছেন যে, মনে হচ্ছে আমরা মিরপুরেই খেলেছি। সিরিজ জয়ের পর তো এর অর্ধেক কৃতিত্ব তিনি দর্শকদেরই দিয়ে দিলেন। সাকিব বলেন, ‘এই মাঠে খেলতে গিয়ে আমাদের কখনোই মনে হয়নি যে ঘরের বাইরে খেলতে নেমেছি। এ কারণে দর্শক-সমর্থকদের ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই। তারা যেন আমার দলের দ্বাদশ ব্যক্তি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.