বিসিককে কার্যকর করা জরুরি

প্রকাশিত:রবিবার, ০১ নভে ২০২০ ০৮:১১

বিসিককে কার্যকর করা জরুরি

সম্পাদকীয়: পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন নামে যাত্রা শুরু করেছিল বর্তমানের বিসিক। এ সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল কম শিক্ষিত মানুষকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু এরই মধ্যে ৬৩ বছর অতিবাহিত হলেও এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও বিসিক একটি অকার্যকর সংস্থাই রয়ে গেছে। অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব, সর্বোপরি দুর্নীতির কারণে এ সংস্থার সব সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেছে। বিসিকের বরাদ্দ পাওয়া ৪৫ শতাংশ প্লটেই গড়ে ওঠেনি শিল্প। বরাদ্দ নেয়া হয়েছিল শিল্পের নামে, অথচ সেখানে করা হচ্ছে অন্য কাজ।

ওদিকে বিসিকের আওতায় বরাদ্দ নেয়া বর্তমানে ৪৬০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানই রুগ্ন, যা মোট শিল্প ইউনিটের ৮ শতাংশ। খালি প্লটের সংখ্যা ৪৫১। বরাদ্দ পাওয়া উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ বলছেন, প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এটি কোনো শক্ত যুক্তি নয়। বস্তুত শিল্প প্লটগুলোয় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। নেয়া হয়নি বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা। কিছু ক্ষেত্রে এমন জায়গায় শিল্পনগরী করা হয়েছে, যেখানে মানুষ যেতে চায় না। আসলে বিসিকে একটি সংস্কার প্রক্রিয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বরাদ্দকৃত প্লটে শিল্পকারখানার পরিবর্তে অন্য কোনো স্থাপনা গড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে গবেষণা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, পুঁজির জোগান ও পণ্য বিপণনে সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনের আয়োজন, উদ্যোক্তাদের কর কমানোর বিষয়ে পদক্ষেপ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ও পণ্যের মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান করতে হবে।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •