বৃত্তিসহ যুক্তরাজ্যের ইটন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেল বাংলাদেশি ছাত্র

তিন দিনের কঠোর মূল্যায়ন পরীক্ষায় টিকে যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইটন কলেজে বৃত্তিসহ পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের ১৫ বছরের এক স্কুল ছাত্র। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম এবং হ্যারিও এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া শিক্ষাবর্ষের জন্য চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মূল্যায়নে টিকে ৭৬ হাজার ইউরো বা ৭২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বৃত্তি জিতে নিয়েছেন মাহেরাজ আহমেদ নামের ওই স্কুল শিক্ষার্থী।

মাহেরাজের পাঁচ বছর বয়সে তার পরিবার বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে চলে আসে। বর্তমানে পূর্ব লন্ডনের প্লেইস্টো এলাকার কাম্বারল্যান্ড স্কুলে পড়াশোনা করছেন তিনি। একই স্কুলে পড়ছে তার ছোট বোন সানজিদাও। মাহেরাজ বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার খুবই কঠিন জীবন যাপন করি, ইটনে যাওয়া আমাদের জীবনকে আরও ভালো করার সুযোগ দেবে’।

বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন বিশ্বের বহু খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতা। এই কলেজে নিজের জায়গা করে নিতে মাহেরাজকে তিনটি ভর্তি পরীক্ষা, সাতটি সাক্ষাৎকার ও একটি পাবলিক বিতর্কে অংশ নিতে হয়েছে। একজন হার্ট সার্জন হতে চাওয়া মাহেরাজ এ-লেভেলে ইটন কলেজে ইতিহাস, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং পদার্থ বিজ্ঞান পড়বেন। আগামী দিনে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান মাহেরাজ। তার মা রানি বেগম বলেন, ‘আমরা আমাদের ছেলেকে নিয়ে গর্বিত। খুবই অল্প বয়স থেকে সে খুবই চটপটে। সবসময়ই ক্লাসে শীর্ষ অবস্থানে থেকেছে। আমরা খুবই ভাগ্যবান যে মাহেরাজ এই এলাকার সবচেয়ে ভালো স্কুলে পড়তে পেরেছে’।

কাম্বারল্যান্ড স্কুল থেকে ইটন কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রথম শিক্ষার্থী মাহেরাজ। আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সবসময়ই তাকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাহী প্রধান শিক্ষক এবং কমিউনিটি স্কুল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী সিমন এলিয়ট। মাহেরাজ বলেন, পড়াশোনা আর রিভিশন দেওয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখার সময়টা খুবই কঠিন ছিল। যতবারই আমি ক্লান্ত হয়েছি ততবারই ভেবেছি এলিয়ট স্যার আমাকে সাহায্য করতে কতটা কষ্ট করছেন। আমি কাউকে কষ্ট পেতে দিতে পারি না।

কাম্বারল্যান্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিনেন বলেন, ‘মাহেরাজ এক প্রতিশ্রুতিশীল ও কঠোর পরিশ্রম করা ছাত্র। সফলতা তারই প্রাপ্য’।