বেড়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে গবাদিপশু

প্রকাশিত: ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

বেড়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে গবাদিপশু

 

নির্মল সরকার, বেড়া, পাবনা ঃ
ঘাতক ব্যাধি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে কার্যকারি পদক্ষেপ লকডাউনের ফলে খেটে খাওয়া মানুষ কাজ করতে না পারায় নিজেরা যেমন খাদ্য সংকটে পড়েছে। আরও বেশী বিপদে পড়েছে তাদের গবাদি পশু নিয়ে,হিমশিম খাচ্ছে গরু বাছুরের খাবার যোগার করতে। অর্থের অভাবে খড়-ভুষি কিনতে পারছেনা,খাদ্যের অভাবে দূর্বল ও রোগক্রান্ত হয়ে পড়ছে তাদের গবাদিপশু।
ছোট বড় বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খেটে খাওয়া মানুষ যারা এক দু’টি গরু বাছুর পালন করছে তারাই মুলতঃ মহা সংকটে পড়েছে। ক্ষুদ্র চায়ের দোকানী,রিক্সাচালক,দিনমজুর সহ খেটে খাওয়া মানুষ যারা নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করতে জীবনের ঝুকি নিয়ে গোপনে আবডালে সামান্য কিছু আয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা তাদের গরু-বাছুরের খাবার সংগ্রহ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ও সরবরাহের ঘাটতি থাকার অজুহাতে ইতি মধ্যেই খড়-ভুষি সহ গো খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে গো-খাদ্য ব্যবসায়ীরা। নিরুপায় হয়ে তাদের গবাদি পশুকে অর্ধেক পেট খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান বেড়ার বনগ্রামের রিক্সাচালক মুনুমিয়া।
খাদ্য সংকটে পড়া অর্ধাহারের কারনে গরু বাছুর গুলো দূর্বল হয়ে পড়ছে এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানায় উপজেলার ত্রিমোহনী গ্রামের দিনমজুর হাসেম আলী। সে আরও জানায় আমি স্থানীয় এক এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ মাস আগে একটি এড়ে বাছুর কিনেছি। নিজের কোন জমি-জমা না থাকায় প্রতিদিন মজুর খেটে যা পাই তা দিয়ে নিজেদের ও বাছুরটার খাবার যোগার করে আসছি। কোন কাজ না থাকায় নিজেদের সহ আমার বাছুরটাকেও পেট ভরে খাবার দিতে পারছিনা। সে বলে আমার মত অনেকেই ভবিষ্যতে একটু স্বচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করার প্রচেষ্টায় ঋণ নিয়ে গরু বাছুর পালন করে থাকে।
দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ গুলো ভবিষ্যতের সপ্ন পূরণের লক্ষ্যে জীবন সংগ্রামে আরও একটু ঝুঁকি নিয়ে গরু বাছুর পালন করে থাকে। সারা বছর নিজেদের সংসার চালানোর খরচ থেকে কিছু বাঁচিয়ে তা দিয়েই গরু বাছুর পালন করে থাকে। কোরবানী ঈদ উপলক্ষে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো গরু মোটাতাঁজা বা ছোট গরু লালন পালন করে বড় করে বিক্রি করে এনজিও,গো-খাদ্যের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ পরিশোধ করে থাকে বলে জানান উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র চায়ের দোকানী জামাল শেখ।
ক্ষুদ্র এ সব গবাদিপশু পালনকারীদের মতই বিপাকে পড়েছে উপজেলার বড়,মাঝারী ও ছোট প্রায় ১২শ দুগ্ধ খামারী। বিশেষ করে দুধের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠা গো-খামারীরা তাদের উৎপাদিত দুধ হাটে বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি করছে এবং এতে প্রতিদিন বেড়ে চলছে লোকশানের বোঁঝা। পরিবহন,সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে না পাড়ার কারনে বেড়ায় স্থাপিত দুধ ক্রয় ও সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের দুধ ক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় ভাবে দুধ ক্রয় ও শীতলী করন কেন্দ্রগুলো দুধ ক্রয় থেকে বিরত রয়েছে এবং মিষ্টি তৈরীর কারখানা ও দোকান বন্ধ থাকায় মিষ্টির দোকানীরাও দুধ কিনছেনা। বেড়া উপজেলা সীমানা সংলগ্ন শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী রাষ্ট্রায়াত্ত দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্র মিল্ক ভিটা তাদের দুধ ক্রয় অর্ধেকেরও নীচে নামিয়ে নিয়ে এসেছে,তার পরও মিল্ক ভিটা বাইরের থেকে দুধ না নিয়ে তাদের সমবায় সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে দুধ সংগ্রহ করে থাকে। দুধ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গুলো দুধ না কেনার ফলে ডেইরী ফার্মগুলোর উৎপাদিত দুধ হাটে বাজারে,পাড়া মহল্লায় ফেরী করে বিক্রি করছে। সাধারন মানুষের কাছে ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রির করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। সামান্য দামে দুধ বিক্রি করে তা দিয়ে গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কুলান না হওয়ায় খামারীদের বিভিন্ন সংস্থা বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গবাদি পশুর খাদ্যের যোগান দিতে হচ্ছে। ফলে খামারীরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের খামারী শ্যামল গোষ্মামী জানান। বেড়ায় প্রায় ছোট বড় ১ হাজার ৭৫ টি নিবন্ধিত ও প্রায় ৪৩ টি অনিবন্ধিত গরুর খামার রয়েছে এবং এ ছাড়া ১ থেকে ২ টি গরু পালন করেন এমন কয়েক হাজার ব্যাক্তি রয়েছে বলে বেড়া প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়।
বেড়ার গবাদি পশু পালনকারীরা ছোট বড় সব ধরনের খামারীদের সহজ শর্তে ঋণ ও সাহায্য দিয়ে ধংস প্রায় বেড়ার দুগ্ধ খামার ও খামারীদের রক্ষা করতে সরকারের নিকট আবেদন রাখেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •