ব্যাংক খাতে প্রতিযোগিতা: গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের কী মত?

প্রকাশিত: ১:২৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯

ব্যাংক খাতে প্রতিযোগিতা: গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের কী মত?

বাংলাদেশের প্রত্যেক ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সব ক্ষেত্রে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে নানা ধরণের ঋণসহ বিদ্যমান পণ্য এবং মার্কেট শেয়ার ভাগাভাগি হয়েছে। এ অবস্থায় অটোমেশন ভিত্তিক নতুন পণ্য ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা সৃষ্টি করতে পারে।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘কম্পিটিশন, কনসেনট্রেশন অ্যান্ড ব্যাংকিং স্টাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

 

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম এর পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কন্সালটেন্সী) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।

 

সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএম এর সাবেক অনুষদ সদস্য আব্দুল কায়উম মোহাম্মাদ কিবরিয়া। পাঁচ সদস্যের গবেষণা দলে রয়েছেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরিন, সহকারি অধ্যাপক রেক্সোনা ইয়াসমিন, তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক ড. ইফতেখার আহমেদ রবিন।

 

সেমিনারের উদ্বোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা, অপারেশন এরিয়া, একসেস টু ক্রেডিট, ব্যয়, আর্থিক সেবা, ইনোভেশন ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। প্রতিযোগিতা জাতীয় অর্থনীতি, সমাজের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন করেছে সংস্থাটি। মূলত ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় এ ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মহাঃ নাজিমুদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের দিক বিবেচনায় ব্যাংকারদের সেবা দিতে হবে। তিনি বলেন, বিআইবেএমের গবেষণা এ খাতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা তার বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন।

 

পুবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে বেছে নিতে হবে, সেই সাথে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নীতিমালা আছে, তা পরিপালন করলে অনেকাংশে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যাংকগুলোকে তথ্যপ্রাপ্তির এমআইএস শক্তিশালী করতে হবে। যাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা সব তথ্য সহজে পায়। শ্রেণিকৃত ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকের নিয়মনীতির বাধ্যবাধকতার প্রক্রিয়ার আইসিসিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং বোর্ড ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট সকলকে আইসিসি আমলে নিতে হবে।

 

বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোঃ ইয়াছিন আলি বলেন, প্রতিযোগিতার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকেও গ্রাহকের আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আরফান আলী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। এতে গ্রাহকরা উপকৃত হবে। বেসরকারি খাত ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি গ্রামে ঋণ আরও বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন।

 

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধূরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও ইনোভেশন কম। পুরনো পণ্য নির্ভর করেই চলছে ব্যাংকিং খাত।

 

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী ওসমান আলী বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী ও খুলনায় নজর দিতে হবে। এর বাইরে এসএমই খাতেও ঋণ বাড়াতে হবে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকলে মার্কেট সম্প্রসারণ হবে না। এটি করতে না পারলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •