ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাট মাড়াইয়ে ব্যস্ত চাষিরা

প্রকাশিত:বুধবার, ০৩ আগ ২০১৬ ১১:০৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাট মাড়াইয়ে ব্যস্ত চাষিরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাটি অঞ্চলের বিতৃর্ণ জমিতে চলতি মৌসুমে পাটের ভাল ফলন হয়েছে। এখন চলছে পাট কাটা এবং পাট মাড়াইয়ের কাজ। ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে এখন স্বস্তির হাঁসি। কিন্তু পাট বিক্রয় করতে গিয়ে এ হাঁসি যেন খানিকটা মলিন হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় এখনই পাটের বাজার মূল্য নির্ধারনের দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সেই সোনালী দিনগুলো এখন আর নেই। তবে এখনো পৈত্রিক এ পেশাকে আকরে ধরে রেখে পাট চাষ করে আশার সঞ্চার জাগিয়ে রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের পাট চাষিরা। চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর, নাসিরনগর, নবীনগর এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিতৃর্ণ জমিতে বিভিন্ন জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। এখন গ্রামের প্রতিটি জনপদে উৎসব মুখর পরিবেশে পাট কাটা এবং পাট মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এরই পাশাপাশি আগেভাগেই মুক্ত জলাশয়ে জাকদেয়া পঁচা পাট থেকে আঁশ সংগ্রহ-শুকানো সহ চলছে পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ। আর এ কাজে যুক্ত হয়েছেন এলাকার দরিদ্র পারিবারের মৌসুমী নারী শ্রমিকেরা। তারা জানান আঁশ সংগ্রহ করার কাজ কঠিন হলেও পরিবারের একটু প্রশান্তির জন্যেই তারা এই কাজে যুক্ত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামের পাটচাষি মো: হুমায়ন কবীর.জান্টু মুন্সি, মো: আব্দুল্লাহ জানান এ বছর পাটের ফলন ভাল হয়েছে। আমরা এখন পাট কাটছি, পানিতে জাকদেয়া পাটের গাছ থেকে আঁশ বের করছি। পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে আটি বেঁধে বাড়ীতে নিয়ে যাব। কিন্তু লাভ কি? এমন প্রশ্ন রেখে হতাশার সুরে তারা বলেন সরকার আমাদের কে আগে থেইক্কা পাটের রেইট দেয়রা। যার কারনে কত দামে পাট বেচুম কইতাম পারতাছিনা। ভৈরব-এবং নারায়ন গঞ্জের ব্যপারিরা আইব। যতই কয় বেইচ্যা লামু। ঘর রাইখ্যা লাভ কি।
এদিকে পাটের ফলন ভাল হওয়ায় এাকার মৌসুমী শ্রমিকদের দৌড়ঝাপ বেড়েছে। পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শ্রমিকেরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পঞ্চবটি গ্রামের বিলকিস বেগম, ঝড়না আক্তার এবং ভজনা ভৌমিক তারা এই প্রতিবেদকে বলেন, পাট মারাইয়ের মৌসুম শুরু হওয়ায় আমরা বেশ খুশি। আমরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাট মারাইয়ের কাজ করছি। প্রতি আটি জাকদেয়া পঁচা পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে পাচ্ছি মাত্র ২০টাকা। এক আটিতে ১৫ থেকে ২০টি পাটগাছ থাকে। প্রতিদিন এমন ৫ থেকে ৬টি আটির পঁচা পাটের আটি থেকে পাটের আঁশ ছাড়াতে পারছি। সব মিলিয়ে দৈনিক একশ থেকে একশ বিশ টাকার কাজ করতে পারছি। তারা বলেন, কাজটি কষ্টের হলেও ক্লান্তি নেই। বাড়ীতে বসে থাকার চেয়ে কাজ করা ভাল। যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের ছোট ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ সহ দৈনন্দিক হাত খরচ চলে তাদের। কর্মকইরা খাইলে দুষের কিছু নাই। এমন প্রশ্ন তুলে বলেন আমরা বেশ ভালই আছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক মো: আবু নাছের বলেন, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে ৩ হাজার ৭শ৮৫ হেক্টর জমিতে দেশী-কেনাফ-তোষা এবং মেছতা সহ চার জাতের পাটের চাষাবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাটের ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। চাহিদা থাকায় এ বছর কৃষকেরা পাটের ভাল বাজার মূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং পাট বিশ্লেষক এ জেড এম আরিফ হোসেন বলেন পাট কাটা সহ পাটের ভরা মৌসুম চলছে। এখনই পাটের বাজার মূল্য নির্ধারন করাটা বেশ জরুরী। পাটের ন্যায্য মূল্য পেলে কৃষক লাভবান হবেন। ভবিষৎ এ পাটের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল হবে।
সর্বশেষ কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ব্রাহ্মনবাড়িয়া অঞ্চলে চাষাবাদকৃত জমি থেকে অন্তত ৪৫ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিধর্িারন করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •