ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ‘বেবি লিভ’ প্রস্তাবে টিউলিপের সমর্থন

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্যদের জন্য ‘বেবি লিভ’ বা নবজাতক সন্তানদের দেখাশোনা করার জন্য ছুটির পক্ষে প্রচরাভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। নতুন প্রস্তাবে ছুটিতে থাকাকালীন পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইন অনুসারে নবজাতক সন্তানের মায়েরা হাউস অব কমন্সে ভোট দিতে পারেন না। আইনটি পরিবর্তনের জন্যই এই প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, মধ্যযুগীয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও ছুটির সময় ভোটাধিকারের সুযোগ ছিল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের হাম্পস্টেড ও কিলবুর্নের এমপি। ২০১৬ সালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। নতুন প্রস্তাবের পক্ষে পার্লামেন্টে অধিবেশনের বক্তব্যে টিউলিপ বলেন, ‘আমি একটি প্রান্তিক আসনের প্রতিনিধিত্ব করি। আমি যার দায়িত্ব নিয়েছি তিনি মাত্র ৪২ ভোটে জিতেছেন আর আমি এক হাজারের অল্প কিছু বেশি ভোটে জিতেছি। তারপরও আমি কখনও মনে করিনি আমার ভোটারদের অবহেলা করা উচিত। তাই আমি খুব দ্রুত কাজে যোগ দেই।’

৬ মাস পরই কাজে যোগ দেওয়া টিউলিপের উত্তর লন্ডনের বাড়িতে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল সেই সময়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে টিউলিপ জানান, নিজের নবজাতক সন্তান আজালিয়াকে সেই সভা চলাকালিন লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিনের কাছে রেখেছিলেন টিউলিপ। তিনি জানান, ‘আমার শরীর পুরোপুরো ঠিক ছিল না। তাই কাজে যোগ দেওয়ায় সন্তানকে স্তন্যপানের ক্ষেত্রে একটি জটিল সমস্যা হয়। যাদের এই সমস্যা হয়েছে তারা ব্যাপারটি বুঝবেন। চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার পর তারা পরিষ্কার করেন যে, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ক্লান্ত থাকায় আমার ওই সমস্যা হয়। কারণ আমি বেশি আগে কাজে ফিরেছিলাম।’

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে মধ্যযুগীয় একটি ধারণা ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছেন। এটা হলে পার্লামেন্ট সদস্যরা মাতৃত্বকালীন বা পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার সময়ও পার্লামেন্টে নিজেদের আসনের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। বিষয়টিকে তারা ‘বেবি লিভ’ নামে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। এখন ব্যবস্থাটিকে কতদূর ভাল করা যায় তার প্রস্তাব দেবে একটি সংসদীয় কমিটি। এখন থেকে এমপিরা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিভিন্ন বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ চাইছেন। বিশেষ করে ভোটের ফলাফল যখন হাড্ডাহাড্ডি হয়ে পড়ে বা সন্তান জন্ম দেওয়ার অল্প কিছু পরও তারা এই সুযোগ প্রত্যাশা করছেন।

এই প্রচারিভাযানে নেতৃত্বদানকারী লেবার পার্টির এমপি হারিয়েত হারমান নতুন বাবা-মায়ের ওপর চাপ কমানোর জন্য বিলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার এই প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যযুগীয় পার্লামেন্ট ব্যবস্থায়ও হাউজ অব কমন্সে প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত ছিল। তাই এটা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো কোনও বিষয় নয়। বরং একটি সুন্দর সংসদীয় ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিধির মাধ্যমে নতুন মা-বাবাকে ভোট দেওয়া মাধ্যমে আমাদের ভোটারদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।’

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাউস অব কমন্সের নেতা আন্দ্রে লিডসম বলেন, নারী ও পুরুষ এমপিদের জন্য ‘বেবি লিভে’র মতো কিছু একটা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বেবি লিভ চালু ব্যাপারে আমরা একমত হতে পারলে আমি পুরো সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এখন যুক্তরাজ্যে এমপিদের প্রস্তাবটি হাউজ অব কমন্সের কার্যনিবাহী কমিটির সামনে তুলে ধরা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.