ভাগ্যবতীর কুদরতে ডাকে পাখি মাঝরাতে!

সেবার এক অদ্ভুত দাম্পত্য কলহ দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। দম্পতিটিকে আমি চিনতাম বহুকাল আগে থেকে।

 

তাদের দাম্পত্যের প্রেমময় রসায়ন, সন্তান-সন্ততি এবং সচ্ছলতা দেখে অন্য দম্পতিরা ঈর্ষা করতেন। স্বামীটি ছিলেন একটি বহুজাতিক কোম্পানির বড় কর্তা। দেশ-বিদেশের লেখাপড়া, রুচিশীল পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সুদর্শন দেহসৌষ্ঠবের পাশাপাশি নম্রতা, ভদ্রতা ও সৌজন্যতায় তিনি ছিলেন অনন্য। তার স্ত্রী ছিলেন অনিন্দ্যসুন্দরী, সহজ-সরল পল্লীবালা। দুনিয়ার কোনো সাতপাঁচ বা নয়ছয় মহিলাকে স্পর্শ করত না। খুব কম কথা বলতেন এবং দেখা-সাক্ষাৎ হলে মিষ্টি করে মুচকি হাসি দিয়ে সামাজিকতা রক্ষার চেষ্টা করতেন।

হঠাৎ একদিন কীসে কী হলো বুঝতে পারলাম না। সুখী দম্পতিটির ঘর থেকে প্রচণ্ড হট্টগোল, ঝগড়া-ঝাঁটি এবং চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটির শব্দ ভেসে এলো। এগিয়ে যেতেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উচ্চৈঃস্বরে পরস্পরের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউর করে আগন্তুকদের হতবিহ্বল করে দিতে লাগলেন।

 

 

প্রথমে ঝগড়ার আগামাথা কিছু বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর অনুমান করা গেল যে, সহায়-সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তারা ঝগড়া করছেন। স্ত্রীর দাবি, বিয়ের সময় তার স্বামীটি ছিলেন দীনহীন অসহায় এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাকে বিয়ে করার পর সংসারে সচ্ছলতা আসে এবং পরবর্তীতে স্বামীর ধনসম্পদ ফুলে ফেঁপে স্ফীত হতে হতে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়। অন্যদিকে তাকে বিয়ে দেওয়ার পর তার ধনী পিতা ধীরে ধীরে নিঃস্ব হতে থাকেন। জ্যোতিষীদের গণনামতে, মহিলাটি হলেন সাক্ষাৎ ভাগ্যলক্ষ্মী। তার কপালের কুদরতে স্বামীর আজ এত বড় উত্থান এবং তার অনুপস্থিতির কারণে পিতৃগৃহ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সুতরাং স্বামীকে অবশ্যই তার সম্পত্তির অর্ধেক স্ত্রীর নামে লিখে দিতে হবে এবং একই সঙ্গে শ্বশুর পরিবারের ভরণ-পোষণের দায় গ্রহণ করতে হবে।

সেদিনের সেই অদ্ভুত ঝগড়া-ঝাঁটির কথা আজ বহুকাল পরে হঠাৎ করেই মনে পড়ল নানাবিধ কারণে। নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্ক, পরকীয়া এবং নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা ইদানীং প্রায়ই পত্রপত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে। বিষয়টি আমাকে নানাভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করে তুলেছে। আমি এখন সময় পেলেই নারী-পুরুষের অনাদিকালের সম্পর্ক নিয়ে ভাবী। বিয়ে-থা, বহুবিবাহ, পরকীয়া, ধর্ষণ, পয়সার বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে নারী-পুরুষের একত্র বাস বা লিভ টুগেদার নিয়ে হাজারো প্রশ্ন আমার মাথার মধ্যে নিত্য ঘুরপাক খায়। অসম বিয়ে অর্থাৎ রাজকন্যা কর্তৃক পিয়ন-ড্রাইভার-দারোয়ানকে পাত্র নির্বাচন অথবা রাজপুত্র কর্তৃক বুয়া-মুয়া, ঘুঁটে কুড়ানি থেকে রাস্তার পাগলি অথবা হিজড়ার পাণিপ্রার্থী হওয়ার নেপথ্য কারণ খোঁজার কাজে আমার মন-মস্তিষ্ক প্রায়ই ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.