ভাঙ্গা তরীই আবেদার একমাত্র সম্বল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টে ২০২০ ০৫:০৯

ভাঙ্গা তরীই আবেদার একমাত্র সম্বল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :
সংগ্রামী আবেদা বেগমের একমাত্র সম্বল ছোট একটি ডিঙ্গি নৌকা। নৌকাটি দিয়ে লোকজন পার করে যা পান তাই দিয়ে কোনমতে চলে তার সংসার। নৌকাটি জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করার প্রয়োজন পড়লেও অর্থের অভাবে তা পারছেন না।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাওয়ালজানি গ্রামের বাসিন্দা আবেদা বেগম (৫৫)। স্বামীর নাম আনছার শেখ (৬৩)। ৫ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক-জননী তারা। পদ্মা নদীর ভাংগনের মুখে থাকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে গত বছর হতে অন্যের বাড়ির আঙ্গিনায় কোন মতে মাথা গুঁজে আছেন। সংসারের প্রয়োজনে টানা ২০ বছর ধরে তিনি খেয়া নৌকার মাঝি’র কাজ করে আসছেন। এতে বছরের ৬/৭ মাস তার মোটামুটি ভাল চললেও বাকি শুকনো সময় তাকে বেকার থাকতে হয়।
সরেজমিন আলাপকালে আবেদা বেগম বলেন, প্রথম দিকে নৌকা চালানো নিয়ে নানা জনে নানা কথা বলতো। কিন্তু তাদের কথায় কান দিলে তো আমার সংসার চলতো না। খেয়া নৌকা মূলত আমার স্বামীই চালাতো। সংসারের প্রয়োজনে আমি নৌকা চালানো শুরু করি আর আমার স্বামী অন্য কাজ করতেন। দুজনের আয়ে মোটামুটি ভাবে চলতে থাকে সংসার। এ অবস্থায় একে একে তাদের ৫ টি মেয়ে ও সর্বশেষ ১ টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ইতিমধ্যে ৪ টি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েটিকে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করাচ্ছি। এবার সে এইচএসসি পরিক্ষার্থী। ছেলেটা ক্লাস ফোরে পড়ে।
আবেদা বেগম আরো জানান, গত ২ বছর হলো তার স্বামী অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেছে। কোন কাজ করতে পারে না। আমারও আগের মতো শরীর চলে না। দিনে দেড় ‘দুইশো টাকার বেশি আয় করতে পারি না। নৌকাটাও ভেঙ্গে গেছে। টাকার অভাবে মেরামত করতে পারছি না। তার উপর ঘাট মালিকের বাৎসরিক টাকার চাপ রয়েছে ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তারা সরকারি তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা পান না। নদী ভাঙ্গনের মূখে থাকায় অন্যের বাড়িতে কোন রকমে আশ্রয় নিয়ে আছেন। কিন্তু কেউ খোঁজ নেয় না। সামনের দিনগুলো হয়তো আরো কষ্টের হবে ভেবে বলেন, ছেলে-মেয়ে দুইডারে একটা গতি করে না দিতে পারলে মইরাও যে শান্তি পাব না।
এ প্রসঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, তাদের স্বামী -স্ত্রীর বয়স পূর্ণ না হওয়ায় ভাতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন জরুরি মূহুর্তে তাদের সরকারি ১০ কেজি করে চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। আগামীতে তাদেরকে মাসিক ভিজিডি’র খাদ্য সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করবো।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •